আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

থাইল্যাণ্ড নিয়ে কত কথা!!!

গতকাল একজন ভিক্ষু আসলো থাইল্যাণ্ড থেকে। সে একটা ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স করছে। আমি বললাম, তোমাকে তো বেশ স্বাস্থ্যবান দেখাচ্ছে। থাইল্যাণ্ডে ভালো খাওয়ায় মনে হয়! সে বলল, ভান্তে, কয়েকমাস আগে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যেতে হয়েছিল। এরপর থেকে স্বাস্থ্যের দিকে একটু নজর দিতে হচ্ছে। তার কথা শুনে আমার একটু সহানুভূতি জাগল। বললাম, হাসপাতালে কে তোমাকে সেবাযত্ন করল? সে বলল, ওখানে নার্স ভাড়া করতে হয়। প্রতি রাতের জন্য ৫০০ বাথ। আমি তো অবাক। তাহলে তো তোমার অনেক টাকা খরচ হয়েছে। সে বলল, কিছু করার নেই। ওখানে টাকা না থাকলে কেউ কাউকে দেখে না। সেখানে বিহারে থাকার জন্য রুম ভাড়া দিতে হয়, পানি বিল, বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। আপনি বার্মায় ভান্তে হিসেবে টাকা ছাড়া থাকতে পারছেন, ওখানে টাকা ছাড়া আপনাকে কেউ ফিরেও দেখবে না। থাইল্যাণ্ডে এখন আর ধর্ম নেই। সেটা এখন ব্যবসা। সেখানে বিহারগুলোতে দাহ করার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। সেই থেকে প্রতিদিন কত যে মৃতদেহ দাহ করাতে আসে বিহারে। এভাবে বিহারগুলো এখন টাকা কামানোর মেশিনে পরিণত হয়েছে। পিণ্ডচারণে গেলে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০০০ বাথ পাওয়া যায়। তাহলে মাসে ৩০হাজার বাথ। বাংলাদেশী টাকায় ৯০হাজার টাকা! শুনে আমি লাফিয়ে উঠলাম। ধুর ছাই! আমি এই বার্মায় বসে বসে কী করছি? থাইল্যাণ্ডে গেলেই তো হয়! কিন্তু সে আমাকে বাধা দিল। বলল, ভান্তে আপনি ওখানে যাবেন না। ওখানে গেলে ধর্ম সব ভুলে যাবেন। ভান্তে থেকে তখন বিজনেসম্যান হয়ে যাবেন। আপনি কি বিজনেসম্যান হতে চান? আমি একটু থমকে গেলাম। তাই তো। আমি কি বিজনেসম্যান হতে চাই? মনে তো হয় না। তাহলে আর ওখানে গিয়ে লাভ কী?

থাইল্যাণ্ডের ব্যাপারে যারা জানেন, তারা এব্যাপারে একটু মন্তব্য করুন তো। ব্যাপারটা কতটুকু সত্য?

এডিট: অনেকেই থাইল্যাণ্ডের ব্যাপারে তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তাদের সবার প্রতি রইল আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। এভাবে এর কথা থেকে, ওর কথা থেকে যে টুকরো টুকরো চিত্রগুলো পাওয়া যায় সেটা মিলিয়ে দেখলে বুঝা যায় থাইল্যাণ্ডে বনভিক্ষুরা বাদে অন্যরা একদম গোল্লায় গেছে। বার্মাতেও গোল্লায় যেতে বসেছে। আর সেখানে মুসলিমদের প্রভাবের কথা জেনে আমি অবাক!! হয়েছে। আমার কোথাও যাবার খায়েশ রইল না আর।

2 thoughts on “থাইল্যাণ্ড নিয়ে কত কথা!!!

  1. মনে করেছিলাম থাইল্যান্ড যাবো। ধ্যান করবো। এসব শুনে মনে হচ্ছে- বাংলাদেশে বসে কোন ভান্তের গাইড মেনে আর ইং/বাংলা ধ্যানের বই কন্সাল্ট করে ধ্যান করবো। তেমন কোন ভান্তের কথা জানা থাকলে প্লিজ নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করুন।

    1. আপনি knowing and seeing pdf লিখে গুগলে সার্চ করতে পারেন। বইটা পাঅক সেয়াদের। তিনিই একমাত্র ধ্যানের প্রথম থেকে চতুর্থ ধ্যানে কীভাবে যেতে হয় সেগুলো বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন বইটাতে। বইটার বাংলা অনুবাদের জন্য ‘জানা ও দেখা’ লিখে সার্চ দিলেই হবে গুগলে।

      আর আমি কোরায় এব্যাপারে বেশ লম্বা একটা উত্তর দিয়েছিলাম। সেটার লিংক আছে এখানে: https://www.quora.com/What-is-the-best-source-for-instruction-on-Theravada-breath-meditation/answer/Sansayan-Chakma

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *