আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

৩২ প্রকার দৈহিক শাস্তি

অনেকদিন ধরে অনেকেই জানতে চেয়েছে ৰাত্তিংসকম্মকারণা বা ৩২ প্রকার দৈহিক শাস্তি কী কী। গতকাল একটু খুঁজে খুঁজে বের করলাম সেগুলো। তবে এখানে শুধু ২৬টি শাস্তির কথা আছে। কিন্তু ৩২টি শাস্তির কথা বলা হয় কেন তা আমার জানা নেই। চাবুক ইত্যাদি মারা এবং হাতপা কেটে দেয়া ইত্যাদির সমন্বয়ে ৩২টি হয় বলে আমার ধারণা।

সে যাই হোক, এই ৩২ প্রকার শাস্তির জন্য দেখতে হবে চূল়দুক্খক্খন্ধসুত্তং (ম॰ নি॰ ১.১৭৮)। সেখানে বলা হয়েছে-

**************১. মারা বা পেটানো******************
1. কসাহিপি তাল়েন্তি – চাবুক মারা
2. ৰেত্তেহিপি তাল়েন্তি – বেত মারা
3. অড্ঢদণ্ডকেহিপি তাল়েন্তি – মুগুর দিয়ে মারা

*************২. অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে দেয়া*************
4. হত্থম্পি ছিন্দন্তি – হাত কেটে দেয়া
5. পাদম্পি ছিন্দন্তি – পা কেটে দেয়া
6. হত্থপাদম্পি ছিন্দন্তি – হাতপা কেটে দেয়া
7. কণ্ণম্পি ছিন্দন্তি – কান কেটে দেয়া
8. নাসম্পি ছিন্দন্তি – নাক কেটে দেয়া
9. কণ্ণনাসম্পি ছিন্দন্তি – কান-নাক কেটে দেয়া

*************৩. মৃত্যুদণ্ড*************
10. বিলঙ্গথালিকম্পি করোন্তি – মাথার খুলি কেটে সেখানে তপ্ত লোহাগোলক ঢুকিয়ে দেয়া হয়। মাথার মগজ তখন টগবগ করে ছিটকে পড়তে থাকে।
11. সঙ্খমুণ্ডিকম্পি করোন্তি – উপরের ঠোঁট থেকে শুরু করে উভয় পাশের কানের গোড়া পর্যন্ত চামড়া কেটে দেয়া হয়। এরপর মাথার চুলগুলো গিঁট দিয়ে বেঁধে একটা লাঠিতে প্যাঁচিয়ে টান দেয়া হয়। মাথার চুল সহ চামড়া খুলে আসে। এরপর তার মাথার খুলিকে পাথর দিয়ে ঘষে ঘষে শঙ্খের মতো ধবধবে সাদা করে তোলা হয়।
12. রাহুমুখম্পি করোন্তি – চিমটি দিয়ে মুখ হা করে মুখের ভেতরে প্রদীপ জ্বালানো হয়। অথবা কানের গোড়া থেকে শুরু করে মুখ পর্যন্ত বাটালি দিয়ে খনন করা হয়। তখন রক্ত বেয়ে পড়ে মুখ ভর্তি হয়ে যায়।
13. জোতিমালিকম্পি করোন্তি – সারা দেহ তেল মেশানো কাপড়ে মুড়ে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।
14. হত্থপজ্জোতিকম্পি করোন্তি – হাতে তেল মেশানো কাপড় মুড়ে দিয়ে প্রদীপের মতো জ্বালানো হয়।
15. এরকৰত্তিকম্পি করোন্তি – গলার চামড়া কেটে টেনে টেনে পায়ের গুল্ফ পর্যন্ত রাখা হয়। এরপর সেটাতে দড়ি দিয়ে বেঁধে টানা হয়।
16. চীরকৰাসিকম্পি করোন্তি – আগের মতোই গলার চামড়া কেটে টেনে টেনে কোমর পর্যন্ত নেয়া হয়। কোমর থেকে আরো এক টুকরো চামড়া কেটে টেনে টেনে পায়ের গুল্ফ পর্যন্ত নেয়া হয়। এভাবে সারা শরীর গাছের বাকল পরিহিত ব্যক্তির মতো দেখায়।
17. এণেয্যকম্পি করোন্তি – উভয় কনুই ও হাঁটুতে লোহার বালা পরিয়ে দেয়া হয়। এরপর তাদেরকে চারটি বর্শা দিয়ে মাটিতে গেঁথে দেয়া হয়। এরপর তাকে ঘিরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।
18. বল়িসমংসিকম্পি করোন্তি – উভয় মুখে বড়শি দিয়ে গেঁথে চামড়া মাংস পেশিতন্তু সব উপড়ে ফেলা হয়।
19. কহাপণিকম্পি করোন্তি – ধারালো বাটালি দিয়ে ক্রমান্বয়ে একটু একটু করে সারা শরীর খনন করা হয়।
20. খারাপতচ্ছিকম্পি করোন্তি – শরীরের এখানে ওখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে সেখানে ক্ষার ঘষে দেয়া হয়। চামড়া, মাংস ও পেশিতন্তু সব গলে গিয়ে ঝরে পড়ে। কেবল কঙ্কাল দাঁড়িয়ে থাকে।
21. পলিঘপরিৰত্তিকম্পি করোন্তি – তাকে একপাশে কাত করে শুইয়ে দিয়ে একটি বর্শা কানের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে মাটির সাথে গেঁথে ফেলা হয়। এরপর তাকে পায়ে ধরে ঘোরানো হয়।
22. পলালপীঠকম্পি করোন্তি – দক্ষ লোক দিয়ে পাথর দিয়ে মেরে মেরে হাড়গোড়গুলো ভেঙে দেয়া হয় কিন্তু চামড়ায় কোনো দাগ থাকে না। এরপর তার চুল ধরে ছুঁড়ে ফেলে দেয়া হয়। সে তখন মাংসের স্তুপের মতো তাল হয়ে পড়ে থাকে। তাকে তার চুলগুলো দিয়ে বেঁধে খড়ের দড়ির মতো প্যাঁচানো হয়।
23. তত্তেনপি তেলেন ওসিঞ্চন্তি – তপ্ত তেল ঢেলে দেয়া হয়।
24. সুনখেহিপি খাদাপেন্তি – কুকুরগুলোকে কয়েকদিন না খাইয়ে ক্ষুধার্ত করে তোলা হয়। এরপর তাদের মুখে ছেড়ে দেয়া হয়। মুহুর্তের মধ্যেই তার হাড়গোড়গুলো অবশিষ্ট থাকে মাত্র।
25. জীৰন্তম্পি সূলে উত্তাসেন্তি – না মরা পর্যন্ত তাকে বর্শা দিয়ে গেঁথে রাখা হয়।
26. অসিনাপি সীসং ছিন্দন্তি – তলোয়ার দিয়ে মাথা কেটে দেয়া হয়।

বাকি ৬টি হচ্ছে এগুলোরই সংমিশ্রণ। অর্থাৎ-
27. তাকে কেবল পেটানো হয়
28. তাকে কেবল অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে দেয়া হয়
29. তাকে কেবল গুরুতর শাস্তি দিয়ে মেরে ফেলা হয়
30. তাকে পেটানো হয়, এরপর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে দেয়া হয়
31. তাকে পেটানো হয়, এরপর গুরুতর শাস্তি দিয়ে মেরে ফেলা হয়
32. তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে দেয়া হয়, এরপর গুরুতর শাস্তি দিয়ে মেরে ফেলা হয়
33. তাকে পেটানো হয়, তার অঙ্গগুলো কেটে দেয়া হয় এবং সবশেষে গুরুতর শাস্তি দিয়ে মেরে ফেলা হয়।

এই হচ্ছে বুদ্ধের আমলের ৩২ প্রকার শাস্তি। কাজেই সাধু সাবধান !!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *