আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

একজন ভিক্ষুর ন্যুনতম কী কী শিক্ষা করা উচিত?

ভিক্ষুর সাধারণত যেকোনো একজন গুরুর আশ্রয়ে পাঁচ বছর ধরে থাকতে হয়। পাঁচ বছর পরে যদি দক্ষ হয়, তাহলে সে গুরুর আশ্রয় ছাড়া স্বাধীনভাবে যেখানে খুশি থাকতে পারে। কিন্তু পাঁচ বছরেও দক্ষ না হলে যতকাল যাবত দক্ষ না হয় ততকাল গুরুর আশ্রয়ে থাকতে হয়। সারাজীবন দক্ষ না হলে সারাজীবন গুরুর আশ্রয়ে থাকতে হয়। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে- ভিক্ষু কখন দক্ষ হয়?

ভিক্ষু হিসেবে ন্যুনতম শিক্ষণীয় বিষয়গুলো
*********************************************
ভিক্ষু হিসেবে দক্ষ হওয়ার জন্য তার নিম্নোক্ত বিষয়গুলো শিক্ষা করা উচিত-
১) তার কমপক্ষে দুই মাতিকা (ভিক্ষু ও ভিক্ষুণী পাতিমোক্খ) অর্থ সহকারে মুখস্থ করতে হয়।
২) উপোসথ দিনগুলোতে ধর্মদেশনার জন্য সুত্র থেকে চতুভাণৰার মুখস্থ করতে হয়। চতুভাণবার হচ্ছে মূল পরিত্রাণ সুত্রের সংগ্রহ যেটা আমি আগের পোস্টে উল্লেখ করেছি।
৩) ধর্মালাপ করার জন্য অন্তত অন্ধকৰিন্দ সুত্র অথবা মহারাহুলোৰাদ সুত্রের মতো কোনো সুত্র মুখস্থ করতে হয়।
৪) সঙ্ঘদান ইত্যাদি যেকোনো মাঙ্গলিক-অমাঙ্গলিক অনুষ্ঠানে অনুমোদনের জন্য তিন প্রকার অনুমোদন শিক্ষা করতে হয়। অর্থাৎ দানের সুফল সম্পর্কিত দেশনা শিক্ষা করতে হয়। নতুন বাড়িঘর ইত্যাদির মঙ্গল অনুষ্ঠানের জন্য মঙ্গলসুত্র ইত্যাদির দেশনা শিক্ষা করতে হয়। শ্রাদ্ধক্রিয়া ইত্যাদির ক্ষেত্রে তিরোকুট্ট সুত্র ইত্যাদির দেশনা শিক্ষা করতে হয়। এই হচ্ছে তিনপ্রকার অনুমোদন।
৫) উপোসথ, প্রবারণা সম্পর্কে জানতে হয়। সঙ্ঘকর্মগুলো বিস্তারিত জানতে হয় (এর জন্য পরিবার গ্রন্থের সর্বশেষ অধ্যায় পঞ্চবর্গের কর্মবর্গটি শিক্ষা করতে হয়)।
৬) ধ্যানসাধনার জন্য শমথ বা বিদর্শনের ধ্যানপদ্ধতি একদম অর্হত্বমার্গফল পর্যন্ত কীভাবে কী করতে হয় তা শিখে নিতে হয়। বিদর্শনের ধ্যানপদ্ধতি জানতে চাইলে চারিধাতু ভাবনা থেকে শিক্ষা শুরু করতে হয় বলে গণ্ঠিপদগুলোতে বলা হয়েছে।

পাঁচবর্ষা ভিক্ষু এগুলো জানলে সে তখন গুরুর আশ্রয়ে না থেকেও চলতে পারে। তখন সে চারদিকে যেখানে খুশি সেখানে যেতে পারে। যেখানে খুশি সেখানে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারে।

গুরু হিসেবে ন্যুনতম শিক্ষণীয় বিষয়গুলো
**********************************************
এ তো গেল স্বাধীন ভিক্ষুর কথা। কিন্তু গুরু হিসেবে নিজের শিষ্যমণ্ডলী করতে চাইলে কীরকম দক্ষ হওয়া উচিত?
গুরু হতে হলে ভিক্ষু হিসেবে কমপক্ষে দশ বর্ষা হতে হয়। তার নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানতে হয়-
১) তার শিষ্যদেরকে উচ্চতর বিনয় শিক্ষা দেয়ার জন্য কমপক্ষে দুই বিভঙ্গ (পারাজিকা ও পাচিত্তিয় গ্রন্থগুলো) অর্থসহ মুখস্থ করতে হয়।
২) সঙ্ঘকর্ম ও খন্ধকব্রতগুলো মুখস্থ করতে হয়।
৩) তার শিষ্যদেরকে উচ্চতর ধর্ম শিক্ষা দেয়ার জন্য মধ্যম নিকায় থেকে মূলপণ্ণাস মুখস্থ করতে হয়।
অথবা দীর্ঘনিকায় থেকে মহাবর্গ মুখস্থ করতে হয়।
অথবা সংযুক্ত নিকায় থেকে প্রথম তিনটি বর্গ (সগাথাবর্গ, নিদানবর্গ ও খন্ধবর্গ) অথবা মহাবর্গ মুখস্থ করতে হয়।
অথবা অঙ্গুত্তর নিকায় থেকে প্রথম বা শেষের অর্ধেক নিকায় মুখস্থ করতে হয়। অর্ধেক না পারলে তিকনিপাত থেকে নিচের যেকয়টা পারা যায় মুখস্থ করা উচিত। মহাপচ্চরি অর্থকথামতে, অঙ্গুত্তর নিকায়ের যেকোনো একটা নিপাত মুখস্থ করতে চাইলে চতুক্কনিপাত অথবা পঞ্চকনিপাত মুখস্থ করা উচিত।
অথবা জাতক ও ধর্মপদের কাহিনীগুলো অর্থকথাসহ শিক্ষা করতে হয়। এর চেয়ে কম হলে হবে না।

তবে গুরু হওয়ার জন্য অভিধর্মপিটক শিক্ষা করার দরকার নেই বলে বলা হয়েছে। যার বিনয়পিটক ও অভিধর্মপিটক অর্থকথাসহ মুখস্থ, কিন্তু সুত্রপিটকের কোনোকিছু শিক্ষা করে নি, সে তার নিজস্ব শিষ্যসঙ্ঘ গঠন করতে পারে না। যে বিনয়পিটক ও সুত্রপিটক থেকে কমপক্ষে উপরোক্ত গ্রন্থগুলো শিক্ষা করেছে সে তার নিজস্ব শিষ্যসঙ্ঘ গঠন করতে পারে, শিষ্যমণ্ডলীকে শিক্ষা দিতে পারে।

2 thoughts on “একজন ভিক্ষুর ন্যুনতম কী কী শিক্ষা করা উচিত?

  1. ভান্তে, বন্দনা।

    “কতঞ্ঞূতা কতবেদী

    বিনয় সম্মত বর্ষাবাস অধিষ্ঠান ও অধিমাস, মলমাস কি? ভদ্দন্ত পঞ্ঞাদীপ ভিক্খু। 10.42 AM- 12 June 2020.
    ————-
    প্রকৃতির নিয়মে সূর্যমাস, চন্দ্রমাসকে ভিত্তি করে পঞ্জিকা তৈরি করে থাকে।
    পৃথিবী সূর্য্যের চারদিকে প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে এক বছর, এ লোক কথা থাকলেও বছরের নববর্ষ মিল থাকে না। পশ্চিমা দেশে ১লা জানুয়ারি। ২২ শে মার্চ ভারতে। বার্মায় পঞ্জিকায় চৈত্র সংক্রান্তিতে।

    বর্ষ পঞ্জিকা ৩-প্রকারঃ
    ————-
    (১) সূর্য সিদ্ধান্ত।
    (২) চন্দ্র সিদ্ধান্ত।
    (৩) ব্যবহারিক সিদ্ধান্ত।

    (১) সূর্য সিদ্ধান্তঃ সূর্য সিদ্ধান্ত গণনানুসারে এক বছর পূর্ণ হয় বর্ষ শুরুরদিন থেকে আরেক বর্ষ শুরুরদিন পর্যন্ত যা ৩৬৫ দিন, ৬ ঘন্টা ১২ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড হয়।

    (২) চন্দ্র সিদ্ধান্তঃ চন্দ্র সিদ্ধান্ত অন্তরিক্ষ দর্শন গণনানুসারে একমাস পূর্ণ হয়। মাস ১ম দিন থেকে পরবর্তী মাস ১ম দিন পর্যন্ত। প্রতিমাসে ২৯ দিন ১২ ঘন্টা ৪৪ মিনিট ৩ সেকেন্ড করে হলে মোট ১২ মাসে ৩৫৪ দিন ৮ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড হয়ে থাকে।

    (৩) ব্যবহারিক সিদ্ধান্তঃ জ্যোতিষীদের গণনা পঞ্জিকা মতে অন্তরিক্ষ দর্শনে চন্দ্র একমাসে ২৯ বছরাংশ রেখে ব্যবহারিক পঞ্জিকায় প্রথম চৈত্রমাসে ২৯ দিন নির্ধারণ করে ২য় বৈশাখ মাসে ৩০ দিন রেখে ১২ মাসে ৩৫৪ দিন বছরকে ব্যবারিক মাসরূপে গণণা করে থাকে।

    যেমন-
    ১। চৈত্র মাস ——– ২৯ দিন।
    ২। বৈশাখ মাস —– ৩০ দিন।
    ৩। জ্যৈষ্ঠ ———- ২৯ দিন।
    ৪। আষাঢ় মাস — ৩০ দিন।
    ৫। শ্রাবণ মাস —— ২৯ দিন।
    ৬। ভাদ্র মাস ——– ৩০ দিন।
    ৭। আশ্বিন মাস —— ২৯ দিন।
    ৮। কার্ত্তিক মাস ——-৩০ দিন।
    ৯। অগ্রহায়ণ মাস — ২৯ দিন।
    ১০। পৌষ মাস—— ৩০ দিন।
    ১১। মাঘ মাস —— ২৯ দিন।
    ১২। ফাল্গুনমাস —– ৩০ দিন। উক্ত বছরকে দুই রকম গণনা করে থাকে।

    (ক) সাধারণ বছরে ১২ মাসে ৩৫৪ দিন। (খ) মল্ল (অধিমাসে) ১৩ মাসে ৩৮৪ দিন।
    মল্ল (অধিমাস) পঞ্জিকায় আষাঢ় মাসকে দুই আষাঢ় মাস বা প্রথম এবং দ্বিতীয় আষাঢ় বলিয়া ৩০ দিন অধিক হওয়ার কারনে মল্ল ১৩ মাসে ৩৪ দিন হয়ে থাকে।

    যেমন—-
    ১। চৈত্র মাস ———২৯ দিন।
    ২। বৈশাখ মাস ——৩০ দিন।
    ৩। জ্যৈষ্ঠ মাস——–২৯ দিন।
    ৪। আষাঢ় মাস ——৩০ দিন।
    ৫। শ্রাবণ মাস ——–২৯ দিন।
    ৬। ভাদ্র মাস ———-৩০ দিন।
    ৭। আশ্বিন মাস ——২৯ দিন।
    ৮। কার্ত্তিক মাস —–৩০ দিন।
    ৯। অগ্রহায়ণ মাস —২৯ দিন।
    ১০। পৌষ মাস—— ৩০ দিন।
    ১১। মাঘ মাস ———২৯ দিন।
    ১২। ফাল্গুনমাস ——৩০ দিন।

    (ক) সূর্য বছর – ৩৬৫ দিন ৬ ঘন্টা ১২ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড।
    (খ) চন্দ বছর – ৩৫৪ দিন ৮ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড।
    (গ) ব্যবহারিক বছর – ৩৫৪ দিন মাত্র। এ সবই স্বভাব প্রকৃতি নিয়মে হয়ে থাকে।

    যে বছরে হোক। বৈশাখী পূর্ণিমায় “বুদ্ধ পূর্ণিমা” হবে। পরিবর্তন হয় না। মল্ল মাস হলে ২য় আষাঢ়ী পূর্ণিমার পর দিন থেকে বর্ষাবাস অধিষ্ঠান করে থাকে।

    মলমাস বা অধিমাসঃ (১৩ মাস বছরে মলমাস হয়)
    ————–
    যে বছরে মলমাস হয় সেই বছরে শ্রাবনমাসকে শ্রাবনমাস না ধরে আষাঢ়মাস ধরে। আষাঢ় মাস দু’বার হবার কারন হল দিন অপূরণ মাসগুলোকে পূরণ করে দেওয়ার কারনে সূর্য এবং চন্দ্র মাস অনুসারে ১৩ মাস বা অধিমাস (মলমাস) হয়ে থাকে।

    দু’রকম বর্ষাবাস অধিষ্ঠানঃ
    ————–
    পুরিম বর্ষাবাস, পচ্ছিম বর্ষাবাস অধিষ্ঠান দু’রকম বর্ষাবাস রয়েছে। আষাঢ়ী পূর্ণিমার পরদিন অধিষ্ঠানকে পুরিমা বর্ষাবাস অধিষ্ঠান বলে। শ্রাবনী পূর্ণিমার পরদিন বর্ষাবাস অধিষ্ঠানকে পচ্ছিম বর্ষাবাস অধিষ্ঠান বলে। [ খুদ্দসিক্খা ভাসাটীকা ]

    পচ্ছিম বর্ষাবাস অধিষ্ঠানঃ
    ————–
    পুরিম বর্ষাবাস ভঙ্গকারী ভিক্ষু এবং কোন কারনে বর্ষাবাস অধিষ্ঠান না করা ভিক্ষু পচ্ছিম বা দ্বিতীয় বর্ষাবাস অধিষ্ঠান করতে পারে। [ খুদ্দসিক্খা ভাসাটীকা ]

    বর্ষাবাস অধিষ্ঠানের অনুজ্ঞাঃ
    —————-
    বুদ্ধ মগধ বেণুবন বিহারে অবস্থান করেছিলেন। তখনো বর্ষাবাস অধিষ্ঠানের জন্য ভিক্ষুসংঘকে প্রজ্ঞাপ্ত করেননি তিনি। ভিক্ষুরা হেমন্ত, গ্রীষ্ম, বর্ষা ৩- ঋতু ধরে দেশচারী করার কারনে সাধারণ গ্রামের মানুষ নিন্দা অপবাদ করে যে এই বুদ্ধপুত্ররা হেমন্ত, গ্রীষ্ম, বর্ষা ৩- ঋতুগুলোতে কেন ভ্রমণ করে। কায়িন্দ্রিয় (রূপজীবনী) বিদ্যমান সবুজ তৃণগুলোর উপর হেঁটে ক্ষতি করে। ক্ষুদ্র প্রাণীদের অনিষ্ঠ করে। তীর্থিক পরিব্রাজকরা তো বর্ষা কালে এক জায়গায় অবস্থান করে। পক্ষীরাও বাসা বেঁধে বাসায় থাকে। ভিক্ষুরা গ্রামের মানুষের এরুপ নিন্দা অপবাদের কথা শুনতে পেয়ে বুদ্ধকে জানিয়ে দিলে তখন থেকে বর্ষাবাস অধিষ্ঠানের বিনয় প্রজ্ঞাপ্ত করেছিলেন। [ মহাবর্গ ভাসাটীকা ]

    অধিমাস স্বীকারঃ
    ———-
    রাজা বিম্বিসার বর্ষাবাস পিছাই নেবার মানসে ভিক্ষুগণের নিকট বার্তা প্রেরণ করেছিলন যে ” আর্যগণ আগামী শুক্লপক্ষে বর্ষাবাস আরম্ভ করলে ভাল হয়। ভিক্ষুরা এ বিষয় বুদ্ধকে জানালেন। ভগবা বললেন- হে ভিক্ষুগণ ! আমি অনুজ্ঞা করছি রাজন্যবর্গের অনুস্মরণ করবে। [ মহাবর্গ ]
    ——
    বিম্বিসার ছিলেন বৌদ্ধ রাজা। বুদ্ধ ভিক্ষুদেরকে রাজন্যবর্গের অনুস্মরণ করতে অনুজ্ঞা করছেন। এটি রাজার সিদ্ধান্ত।
    ——-
    যেদেশে বৌদ্ধ রাজা নাই। সে দেশে ভিক্ষুদের বর্ষাবাস কি রকম হতে পারে? সংঘ কি সিদ্ধান্ত নেবে? অবশ্যই বিনয় সম্মত বর্ষাবাসের উপায় বের করতেই হবে। না হয় দুক্কট আপত্তি সহ চীবর দান গ্রহণ যোগ্য থাকবে না।

    ২৫৬৪ বুদ্ধাব্দ। এ বছর পঞ্জিকা অনুসারে কখন বিদায়- সংক্রান্ত- বরণ হল এবং কোন বছরে কোন সময়ে মল্ল (অধিমাস) হলে ভিক্খু সংঘের কখন বর্ষাবাস অধিষ্ঠান হয় তা ঋতুর নিয়ম মতে বুদ্ধের সময়কাল থেকে মেনে আসছে বৌদ্ধরা।

    অধিমাস
    —-
    এ বছরে ভিক্ষুদের বর্ষাবাস অধিষ্ঠান হবে শ্রাবনী পূর্ণিমার পরদিন। 4 August 2020।

    সবার হিত সুখ মঙ্গল হোক।”

    এই বিষয়ে কিছু মন্তব্য –

    “১. শ্রদ্ধেয় ভান্তে বন্দনা নিবেন।
    ভান্তে, সদ্ধর্ম সহায়
    লেখক: ভদন্ত বসুমিত্র মহাথের বইয়ে দেখলাম অধিমাস এই বৎসর না।
    আগামী ২০২২ সালে হবে।
    একটু দেখলে ভালো হবে।
    ২. ২০২০ ইংরেজী সাল লিপ ইয়ার হলেও বাংলা বছর ও বুদ্ধাব্দ ২৫৬৪ কিন্তু মলমাসযুক্ত বছর নয়। বুদ্ধাব্দ বছরে গ্রীষ্ম-বরষা-হেমন্ত নিয়ে তিন ঋতু। বুদ্ধাব্দ বছরকে তিন দিয়ে ভাগ করলে যদি অবশিষ্ট না থাকে তাহলে সেই বছর হল মলমাসযুক্ত বছর। অন্যথায় মলমাসযুক্ত বছর গণনা করা ভুল হবে। তাই এই বছর আষাঢ়ী পূণিমা হবে ৪ঠা জুলাই,আর ভিক্ষুতদর অধিষ্ঠান হবে ৫ই জুলাই। এটাই থেরবাদী বিনয়। অন্য হিসাব গ্রহণযোগ্য নয়। বুদ্ধাব্দ গণনা করা হয় বুদ্ধের পরিনির্বান বছর থেকে। বুদ্ধের পরিনির্বাণ হয় খৃঃপূঃ ৪৮৩ অব্দে। ঐবছর মলমাস যুক্ত বছর ছিল। সেই হিসাবে ২৫৬৫ বুদ্ধাব্দ মলমাসযুক্ত বছর হবে ২৫৬৪ বুদ্ধাব্দ নয়। পণ্ডিত ধমর্ধার মহাস্থবিরের অনুবাদ গ্রন্থ অধিমাস বিনিশ্চয় বইটি পড়তে অনুরোধ করব। এ বছর ভারতের হিন্দু পঞ্জিকা মতে তৈরী ক্যালেন্ডার ভুল হয়ে গেছে। আমার ৩৯ বছর ভিক্ষুজীবনে এ রকম বিভ্রাট চোখে পড়েনি।”

    ভান্তে, প্রকৃত ব্যাখ্যাটি কী?

    1. ভান্তে, বন্দনা।

      একি বিষয়ে পরম শ্রদ্ধেয় এস. লোকজিৎ ভান্তের মন্তব্য ( https://www.facebook.com/1832658641/posts/10213379701006977 ) –

      “৪ জুলাই ২০২০ইং শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমা ও অধিমাস প্রসঙ্গ
      *********************

      দ্বে মা ভিক্খবে ! বস্সুপনায়িকা পুরিমিকা পচ্ছিমিকাতি । অপরজ্জুগতায় আসাল্হিয়া পুরিমিকা উপগন্তব্বা , মাসগতায় আসাল্হিয়া পচ্ছিমিকা উপগন্তব্বা ।”-( মহাবর্গ)
      ভিক্ষুগণ ! বর্ষাবাস পূর্বের ও পরের হিসাবে দ্বিবিধ । আষাঢ়ী পূর্ণিমার পরদিন কৃষ্ণ পক্ষের প্রতিপদ দিবসে পূর্ব বষাব্রত গ্রহন করতে হয় । ইহা প্রথম বর্ষাবাস । আষাঢ়ী পূর্ণিমার এক মাস পরে ভাদ্র কৃষ্ণ পক্ষের প্রতিপদে পরের বর্ষাবাস অধিষ্ঠান করতে হয় । ইহা দ্বিতীয় বর্ষাবাস ।
      #এই বছর সৌর গণনায় মলমাস হলেও ২৫৬৩ বুদ্ধাব্দ বৌদ্ধ গননায় দেখায় যায় আষাঢ় মাসে আষাঢ়ী পূর্নিমা উদযাপন ও ভিক্ষুদের বর্ষাব্রত অধিষ্টান বিধেয় । #কারন পরম আচার্য্য শ্রীলংকার বিখ্যাত পন্ডিত প্রয়াত উপসেন মহাস্হবির নানা গ্রন্হ অনুসন্ধানে “ বস্সুক্কড্ঢন সংগহো” নামক যে মুল্যবান গ্রন্হ রচনা করেন তাতে #এই বছরের মলমাস তথা অধিমাস হলেও #বৌদ্ধ গননায় আষাঢ়ী পূর্ণিমার প্রতিপদে বর্ষাবাস বিধেয় শ্রাবণী পূর্ণিমায় গিয়ে বর্ষাব্রত অধিষ্ঠান করতে হবে না ।
      #প্রাচীনকাল হতে বর্ষ, মাস,পক্ষ, তিথি গণনার রীতি অনুসারে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মাঝেও প্রতিদিন বুদ্ধশাসনের আয়ুস্কাল কি পরিমাণ গত হল আর কি পরিমাণ অবশিষ্ট রয়েছে , কখন উপোসথ , কখন বর্ষাবাস ইত্যাদি গণনা বিদ্যমান রয়েছে । কারণ ভিক্ষুদের পাক্ষিক উপোসথ সময় প্রাতিমোক্ষ আবৃত্তির অপরিহার্য অঙ্গরূপে এই গণনা প্রণালী অনুসৃত । বুদ্ধের সময়কালে অগ্রহায়ণ মাসই বৎসরের প্রথম মাস ছিল । পরে অবশ্যই বুদ্ধের জন্ময়াদান করায় বৈশাখ মাস বৎসরের প্রথম মাসের গৌরব লাভ করে । বুদ্ধের সময় কালে হেমন্ত, গ্রীষ্ম , বর্ষা এই রূপে বার্ষিক ঋতু গণনা হতো – ক) কার্ত্তিক পূর্নিমার পর পক্ষ হতে ফাল্গুনী পূর্ণিমা পর্যন্ত চারি মাস হেমন্ত ঋতু । উহার পর পক্ষ হতে আষাঢ়ী পূর্ণিমা পর্যন্ত চারিমাস গ্রীষ্ম ঋতু। তৎপর অবশিষ্ট কাল থেকে কার্ত্তিক পূর্ণিমা পর্ষন্ত চারি মাস বর্ষা ঋতু । প্রতি ঋতুতে আট উপোসথ হিসাবে বৎসরে ২৪ উপোসথ ।
      খ) প্রতি ঋতুর আট উপোসথের মধ্যে তৃতীয় ও সপ্তম পক্ষের উপোসথ চতুর্দ্দশীতে করতে হয়।সুতরাং বৎসরে তিন ঋতুর ৬ উপোসথ চতুর্দ্দশীয় হয় , অবশিষ্ট ১৮ উপোসথ পঞ্চদশীতে হয়ে থাকে ।
      – ( মূল সিক্খা পালি , ১২ পৃষ্ট )
      এই গণনায় চতুর্দ্দশীর ৬ উপোসথে (১৪ গুন ৬) = ৮৪ দিন হয় । পঞ্চদশীতে ১৮ উপোসথে ( ১৫ গুণ ১৮ ) = ২৭০ দিন হয় । সর্ব সাকুল্য স্বাভাবিক চান্দ্রবর্ষ ৩৫৪ দিনে হয় । সৌর বর্ষ ৩৬৫ দিনে হয় । সুতরাং বৎসরের মধ্যে বাচনিক ১১ দিন প্রভেদ থাকে । চন্দ্র গণনার এই ১১ দিন কি ভাবে হ্রাস পায় ? চন্দ্রগণনায় প্রতি পক্ষ ১৫ দিনে হলে ২৪ পক্ষে ৩৬০ দিন হয় ।সৌর গণনা হতে ৫ দিন কম । দিনের সাথে তিথি গণনার স্বল্পাধিক্য বশত: কোন দিনে দুই তিথি সংযোগে জ্যোতিষ হিসাবে বৎসরে ৬ দিন কমে যায় । বৌদ্ধ গণনায় ৬ টি চতুর্দ্দশীর উপোসথে ১১ দিন প্রভেদ গণিত হয় ।সৌর তিন বৎসরে বা ৩৬ মাসে ১০৯৫ দিন । চন্দ্র তিন বৎসরে ১০৬২ দিন, তৎসঙ্গে ৩৩ দিন যোগ করলে সৌর গণনার সাথে সম্পূর্ণ মিলিয়ে যায়। এই উভয় গণনার সামন্জস্য বিধানের নিমিত্তে স্মরণাতীত কাল হতে তিন বৎসরে অধিবাস বা অতিরিক্ত এক চন্দ্র মাস গণনার প্রথা প্রচলিত হয়েছে । #এই অধিমাস গ্রীষ্ম ঋতুতেই হয় ।#অন্য ঋতুতে হয় না । গ্রীষ্ম ঋতুর শেষের সমলক্ষণ যুক্ত আষাঢ়ের দ্ধিত্ব হয় । সম্ভবত: এই কারণে জ্যোতিষ শাস্ত্রে ইহার দ্বিরাষাঢ়: সংজ্ঞা সার্থক হয় । দ্ধিতীয় আষাঢ় সৌর শ্রাবণের প্রথম ভাবে পরে । সেই কারণেই হয়তো আচার্য্য পন্ছানন মহোদয় স্বীয় টীকায় বলেছেন -সৌর শ্রাবণে মলমানসা ভবতি “।
      বিনয় মতে বর্ষোৎকর্ষণ তিন বৎসর পর গ্রীষ্ম ঋতুর শেষে আষাঢ় মাসে হয় । #গ্রীষ্ম ঋতু ব্যতীত অধিমাস হয় না।( অধিমাস বিনিশ্চয় ১৭ পৃষ্টা – পন্ডিত ধর্মধার মহাস্হবির )
      #এই বছরের অধিমাস তথা মলমাস পরেছে আশ্বিন মাসে যেহেতু বৌদ্ধ গণনায় গ্রীষ্ম ঋতু ব্যতীত অধিমাস ধরা হয় তাই গ্রীস্ম ঋতুর প্রতিপদে তথা আষাঢ়ী পূর্ণিমার প্রতিপদে বর্ষাব্রত অধিষ্টান বিধেয়। #সেই নিয়ম অনুসারে এই বছর ৪ জুলাই ২০২০ ইং আষাঢ়ী পূর্ণিমা উদযাপন ৫ জুলাই ২০২০ইং ভিক্ষুদের বর্ষাব্রত অধিষ্টান করতে বাধা নাই ।#থাইল্যান্ড , শ্রীলংকা , কম্বোডিয়া সহ বহুদেশ ( বার্মা ব্যতীত ) এই নিয়ম অনুসরণ করে আষাঢ়ী পূর্ণিমা উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ।
      #পরম শ্রদ্ধেয় প্রয়াত মহামান্য ভারতীয় সংঘরাজ পন্ডিত ধর্মাধার মহাস্হবির এর #অধিমাস বিনিশ্চয় গ্রন্হের আলোকে বলা যায় – “ কেহ কেহ প্রবারণাকে দুর্গাপূজা ও লক্ষ্মী পূজার সাথে মিলাইবার জন্য অধিমাস গণনার পক্ষপাতী । যে বৎসর মিলে ভাল কথা , না মিলিলে নিজস্ব বিনয়বিধি ও সমস্ত বৌদ্ধ জগতের আচরণ বিসর্জ্জন দেওয়ার প্রয়োজন নাই । “
      পৃথিবীতে খৃষ্টান , মুসলিমরা কোন পর্ব উক্ত পূজার সাথে মিলিবার জন্য এক মাস পিছাইয়া করিবেন কি ??? আমাদের এই দুর্বলতা কেন ?
      #তাই মনে করি আমাদের কে আমাদের বৌদ্ধ নিয়ম বুদ্ধাব্দ অনুসারে চলা একান্ত প্রয়োজন । বুদ্ধাব্দ গণনায় দেখা যায় এই বছর মলমাস পরিগণিত হয় নাই । তাই বৌদ্ধ গণনা মতে ৪ জুলাই ২০২০ইং শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমা এবং ৫ জুলাই ২০২০ইং ভিক্ষুসংঘের বর্ষাব্রত অধিষ্টান যথার্থ ।”

      ভান্তে, পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাটি কী?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *