আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

বুদ্ধের ৩২টি মহাপুরুষ লক্ষণের ব্যাপারে ব্রাহ্মণেরা জানল কেমন করে?

সিদ্ধার্থ যখন জন্মেছিলেন তখন তার মহাপুরুষ লক্ষণগুলো দেখে ব্রাহ্মণেরা বলে দিয়েছিল এই ছেলে হয় চক্রবর্তী রাজা হবে, নয়তো বুদ্ধ হবে। কথা হচ্ছে, ব্রাহ্মণেরা এই মহাপুরুষ লক্ষণগুলো কোত্থেকে শিখল?

মঙ্গল সুত্রের অর্থকথায় বলা হয়েছে- জগতে বুদ্ধ উৎপন্ন হওয়ার এক হাজার বছর আগে শুদ্ধাবাস ব্রহ্মলোকের দেবতারা তা জানতে পারে। তখন তারা ব্রহ্মঅলঙ্কারে সেজেগুজে ব্রহ্মাপাগড়ি মাথায় দিয়ে খুশিতে উৎফুল্ল হয়ে মানুষের বেশ ধরে মনুষ্যলোকে বিচরণ করতে করতে বলে বেড়ায়, ‘এক হাজার বছর পরে জগতে বুদ্ধ উৎপন্ন হবেন।’ এটাকে বলা হয় বুদ্ধকোলাহল। (খুদ্দকপাঠ অর্থকথা=> মঙ্গলসুত্তৰণ্ণনা=> মঙ্গলপঞ্হসমুট্ঠানকথা)

এই কোলাহল শুনে তখন মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে, সেই বুদ্ধকে কীভাবে চিনব আমরা? তখন শুদ্ধাবাস ব্রহ্মলোকের দেবতারা বেদ গ্রন্থগুলোতে সেই মহাপুরুষ লক্ষণগুলো যোগ করে এর নাম দেয় বুদ্ধমন্ত্র। এরপর ব্রাহ্মণের রূপ ধরে সেই বুদ্ধমন্ত্রকে মানুষের কাছে প্রচার করে বলে, এই ৩২টি লক্ষণ দেখেই তাকে চেনা যাবে। এভাবেই বেদগুলোতে মহাপুরুষ লক্ষণগুলো চলে এসেছে। তবে বুদ্ধের পরিনির্বাণের পরে এগুলোও ক্রমে ক্রমে বিলুপ্ত হয়। সেকারণে এখন নাকি বেদ গ্রন্থগুলোতে এই ৩২ মহাপুরুষ লক্ষণের কথা নেই (দীর্ঘ নিকায় অর্থকথা.১.২৫৮)। অর্থকথার এই দাবি কি সঠিক? আসলেই কি বর্তমান বেদ গ্রন্থগুলোতে এগুলো আর নেই? আমার এখন বেদ গ্রন্থগুলো একটু পড়ে দেখতে ইচ্ছে করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *