আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

উপাসকের পেশা কেমন হওয়া উচিত?

ত্রিরত্নের উপাসক বা উপাসিকা হলে তার মিথ্যাবাণিজ্য ত্যাগ করা উচিত। বুদ্ধ বলেছেন, ভিক্ষুগণ, উপাসকের পাঁচ প্রকার বাণিজ্য করা উচিত নয়। অস্ত্রবাণিজ্য, প্রাণিবাণিজ্য, মাংসবাণিজ্য, মদবাণিজ্য, বিষবাণিজ্য (অঙ্গুত্তর নিকায়.৫.১৭৭)। এখানে অস্ত্রবাণিজ্য মানে হচ্ছে অস্ত্রশস্ত্র বিক্রি করা। প্রাণিবাণিজ্য মানে হচ্ছে মানুষ বিক্রি করা। মাংসবাণিজ্য মানে হচ্ছে শুয়োর, হরিণ ইত্যাদি বিভিন্ন গৃহপালিত প্রাণি পালন করে বিক্রি করা। সেগুলোকে জবাই করে মাংস বিক্রি করাটাও এই মাংসবাণিজ্যের অন্তর্গত। বর্তমানে শুয়োরের খামার, মুরগির খামার, মাছের খামার এগুলোও মাংসবাণিজ্য। মদবাণিজ্য মানে হচ্ছে যেকোনো ধরনের মদ বিক্রি করা। বিষবাণিজ্য মানে হচ্ছে বিষ বিক্রি করা। এগুলো নিজেও করা উচিত নয়, অন্যদেরকে দিয়ে করানোও উচিত নয়।

অঙ্গুত্তর নিকায়ের টীকামতে, অস্ত্রবাণিজ্য করলে আপনি সেই অস্ত্র দিয়ে অপরের অপরাধের সুযোগ করে দিচ্ছেন। তাই সেটা অকরণীয়। প্রাণিবাণিজ্য বা মানুষ বিক্রি করলে সেটার মাধ্যমে আপনি অপরকে দাস বা চাকর বানানোর পথ দেখাচ্ছেন। তাই সেটা অকরণীয়।
মাংস ও বিষ বাণিজ্য প্রাণিহত্যার কারণ হয়। তাই সেটা অকরণীয়। মদবাণিজ্য করলে সেটা অন্যদের প্রমত্ততা বা মাতলামির কারণ হয়। তাই এধরনের বাণিজ্য বাদ দিয়ে ধর্মত ও ন্যায়সঙ্গত পেশার দ্বারা জীবন যাপন করা উচিত। পাঁচ প্রকারের মিথ্যাবাণিজ্যের মাধ্যমে হয়তো টাকা-পয়সা বা মানসম্মান আসতে পারে। কিন্তু নিজের ভবিষ্যতের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে বুদ্ধের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করা কোনো উপাসকের উচিত নয়।

বিশুদ্ধিমার্গ মহাটীকামতে, গৃহীরা যেসমস্ত পেশার মাধ্যমে জীবন ধারণ করে সেগুলোর মধ্যে কাঠমিস্ত্রি ইত্যাদি পেশা হচ্ছে নিম্নশ্রেণির পেশা। কৃষিকাজ, ব্যবসাবাণিজ্য ইত্যাদি হচ্ছে উৎকৃষ্ট পেশা। আবার বিভিন্ন শিল্পবিদ্যার ক্ষেত্রেও বেতের কারিগর ইত্যাদি হচ্ছে নিম্নশ্রেণির পেশা। অন্যদিকে মুদ্রা গণনা বা হিসাববিজ্ঞান ইত্যাদি হচ্ছে উৎকৃষ্ট (ৰিসু.মহাটীকা.২.৪২৭)। তবে হীন হোক বা উৎকৃষ্ট হোক, নিজের দক্ষতা ও আগ্রহ অনুসারে এধরনের যেকোনো পেশায় নিয়োজিত থেকে জীবন ধারণ করা উচিত। উদাহরণস্বরূপ ঘটিকার ব্রাহ্মণ অনাগামী মার্গফল লাভী হয়েও কুমোরের কাজ করে মাটির হাঁড়ি পাতিল বানিয়ে তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে ভরণপোষণ করত।

4 thoughts on “উপাসকের পেশা কেমন হওয়া উচিত?

  1. ১. যেসব পেশায় দশ প্রকার অকুশল কর্ম করতে হয় না এবং যেগুলো পঞ্চ নিষিদ্ধ বাণিজ্যের অন্তর্ভুক্ত নয়, সেগুলো সবই ধর্মসম্মত পেশা।
    ২. বিজ্ঞান, ব্যবসা ইত্যাদি তো ব্যাপক একেকটা ক্ষেত্র। এগুলোকে ঢালাওভাবে ধর্মসম্মত বা ধর্মসম্মত নয় এমনটা বলা যায় না।
    ৩. প্রাণিহত্যা করাটা শীলের অন্তর্ভুক্ত কে বলেছে এমন কথা?
    ৪. শীল ভঙ্গ হয়না, পাপও হয় না।
    ৫. এব্যাপারে আমার ধর্মপদের একটা কাহিনী মনে পড়ছে। এক ধনীর মেয়ে পালিয়ে গিয়েছিল এক ব্যাধের সাথে। অথচ মেয়েটি ছিল স্রোতাপন্ন। এদিকে ব্যাধ তাকে বলত, ধনুক আন, জাল আন, তীর আন। সেই মেয়েটিও তাকে সেগুলো এনে দিত। আর ব্যাধ সেগুলো নিয়ে শিকারে বের হত। এভাবে সে নিষিদ্ধ পেশায় নিয়োজিত ব্যাধকে প্রাণিহত্যার সুযোগ করে দিয়েছে। তাতে কি তার পাপ হয় নি? বুদ্ধ বলেছিলেন তাতে মেয়েটির কোনো পাপ হয় নি। সে শুধু ভেবেছে, স্বামীর কথা অনুসারে কাজ করব। কিন্তু সে কখনো ভাবে নি, আমার স্বামী এগুলো নিয়ে প্রাণিহত্যা করুক। স্রোতাপন্নরা সেভাবে ভাবতেও পারে না।
    ## নিষিদ্ধ পণ্য আবার কী জিনিস? বৌদ্ধধর্মে নিষিদ্ধ পেশার কথা বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ পণ্য নয়।

    1. ভান্তে, বন্দনা।
      ১. দশ প্রকার অকুশল কর্ম কী কী? কোন কোন শর্ত পূরণ হলে একটি কাজকে অকুশল বলা হয়?
      ২. শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি বিনোদনমূলক পেশা কি ধর্মত?
      ৩. প্রাণীহত্যা, মাদক গ্রহণ শীলের লঙ্ঘনের অন্তর্ভুক্ত। দাস বা চাকরের ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা কেন অধর্মত বা পাপ? দাস বা চাকরের সংজ্ঞা কী?
      ৪. যদি কেও নিজে শীল ভঙ্গ ও পাপ না করে এবং অপরে না করুক এরূপ কামনা করে, কিন্তু উপরের ঘটনার মত পরিস্থিতিতে সে যদি জানে তার পরোক্ষ সহযোগিতায় অপরে নিজের এবং অন্যের শীল লঙ্ঘনের, পাপের, ক্ষতির কারণ হবে, তারপরও এরূপ পরিস্থিতিতে সাহায্য করলে কি পাপ অকুশল হবে পৃথকজনের?

      1. ১. প্রাণিহত্যা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যাবাক্য, বিভেদমূলক কথা, কর্কশ কথা, অনর্থক আলাপ, অপরের জিনিসের প্রতি লোভ, অপরের প্রতি হিংসাবিদ্বেষ, মিথ্যাদৃষ্টি। এই এগুলো হচ্ছে দশ অকুশল কর্ম। কোনো পেশায় যদি এগুলো করতে হয় তাহলে সেই পেশা বর্জন করা ভালো।
        ২. গান-নৃত্য এগুলো ধর্মসম্মত নয়। রূপ ও শব্দে মাতাল হওয়াটা বুদ্ধগণ কখনই প্রশংসা করেন না।
        ৩. দাস বলতে ক্রীতদাসকে বুঝায়, বর্তমানকালের চাকরবাকর নয়।
        ৪. পাপ তো হয়, হবেই। প্রতিদিন প্রতি মুহুর্তে আমাদের পাপ হচ্ছে। সুন্দর কাউকে দেখে পছন্দ হলো, এক মুহুর্ত দেখলেন, তাতেই কত পাপ হয়ে গেল। সুন্দর গান শুনলেন, প্রতিটা মুহুর্ত পাপ হয়ে গেল। সুন্দর কিছু উপভোগ করলেন। কত পাপ হয়ে গেল। রেগে গেলেন, বিরক্ত হলেন, পাপ হয়ে গেল। ভয় পেলেন, কাঁদলেন, অস্থির হয়ে গেলেন, হতবুদ্ধি হয়ে গেলেন পাপ হয়ে গেল। দিনে যে কত পাপ হয়ে যায় তার লেখাজোখা নেই। এমন এক মুহুর্তের লোভই আমাদের মরণের মুহুর্তে পরবর্তী জন্মের টিকেট ধরিয়ে দিতে পারে। আমাদের গতি এমনই অনিশ্চিত।

  2. ভান্তে, বন্দনা।
    ১. কোনো পেশা ধর্ম সম্মত কিনা তা যাচাই করার শর্তগুলো কী কী?
    ২. বিজ্ঞান, ব্যবসায়, মানবিক, শিল্প, সাহিত্য ইত্যাদি সব শাখার কোন কোন পেশা ধর্ম সম্মত নয়?
    ৩. প্রাণী হত্যা করা, করতে সাহায্য করা, প্রমত্ত হওয়া, হতে সাহায্য করা শীলের অন্তর্ভুক্ত। দাস বা চাকরের ব্যবসা কেন ধর্ম সম্মত নয়?
    ৪. সমস্ত নিষিদ্ধ পেশা ও পণ্যের সেবা গ্রহণ ও পণ্য ক্রয় করলে ক্রেতার কি শীল ভঙ্গ অথবা পাপ হয়?
    ৫. নিষিদ্ধ পেশা ও পণ্য বিক্রয় নিজে না করে সমাজ ও রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক অথবা কর্মচারী হয়ে অন্যের করার সুযোগ করে দেয়া, নিষিদ্ধ পেশা ও পণ্যের মালিকের কর্মচারী হয়া কি শীলের লঙ্ঘন অথবা পাপ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *