আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

সাধুবাদ কখন দিতে হয়?

একজন আজকে কমেন্টস করে জানতে চাইল কখন সাধুবাদ দিতে হয়। আমি ভাবলাম কমেন্টসের জবাব বরং পোস্টে লিখলেই ভালো হবে। তাই সেব্যাপারে একটু লিখতে বসলাম।

সাধুবাদ মানে হচ্ছে ভালো কথা বা কাজকে অনুমোদন করা, সমর্থন করা। এটা দশ প্রকার কুশল কর্মের অন্যতম। অন্যের যেকোনো কথায় বা কাজে যদি আপনি সাধুবাদযোগ্য বলে মনে করেন তাহলে সাধুবাদ দিতে পারেন। আমার মতে, এটা হচ্ছে পুণ্য অর্জনের সহজতম পন্থা। এতে কোনো পয়সা লাগে না। তবে আমাদের মধ্যে দেখা যায় কেউ কেউ অনুষ্ঠানের শুরুতে সাধুবাদ দেয়। কেউ শেষে সাধুবাদ দেয়। কেউ কারো কথা শুনে সাধুবাদ দেয়। কোনটা সঠিক?

এর সবগুলোই সঠিক। বুদ্ধ অনেকবার অনেকজনকে সাধুবাদ দিয়েছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি তাঁতীর কন্যাকে চারটি প্রশ্ন করে তার উত্তর শুনে চারবারই সাধুবাদ দিয়েছিলেন ( ধম্মপদ.অ.১৭৩)। এভাবে কারোর জ্ঞানগম্ভীর কথা শুনে পছন্দ হলে সাধুবাদ দেয়া যায়।

অন্যের কাজ বা কৃতিত্বের প্রশংসা হিসেবেও আপনি সাধুবাদ দিতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, অানন্দ ভান্তে যখন অর্হৎ হয়ে প্রথম মহাসঙ্গীতিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন তা দেখে মহাকাশ্যপ ভান্তে ভাবছিলেন, ‘অর্হৎ হয়ে তো তাকে সুন্দর দেখাচ্ছে। এখন যদি বুদ্ধ থাকতেন তাহলে নিশ্চয়ই আনন্দকে সাধুবাদ দিতেন। আমিই বরং সেই সাধুবাদ দিয়ে দিই।’ এই ভেবে তিনি তিনবার আনন্দকে সাধুবাদ দিয়েছিলেন। এভাবে যেকারোর ভালো কাজ বা ভালো অর্জনকে সাধুবাদ দিয়ে সমর্থন বা অনুমোদন করা যায়। (পারাজিকা অর্থকথা => গন্থারম্ভকথা)

আবার, অনুষ্ঠানের শুরুতেই সাধুবাদ দেয়া যায়। এর জন্য আমরা সমচিত্ত সুত্রের অর্থকথা দেখতে পারি (অ.নি.অ.২.৩৭)। সারিপুত্র ভান্তের ধর্মদেশনা শুনতে একবার চারি পরিষদ সম্মিলিত হয়েছিল বিশাখার পূর্বারাম বিহারে। জনতার বিশাল সম্মেলন দেখে তখন সারিপুত্র ভান্তে এক গুরুগম্ভীর দেশনা আরম্ভ করলেন, ‘হে বন্ধুবর ভিক্ষুগণ, আজকে আমি অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সংযোজনগুলো নিয়ে দেশনা করব।’

সেই বিহারে একজন স্রোতাপন্ন দেবতা ছিল। তার এমন ক্ষমতা ছিল, দেশনার প্রথম কথা শুনেই বুঝতে পারত দেশনাটা কীরকম হবে। সেটা কি হালকা হবে, নাকি গম্ভীর হবে। সেদিন সারিপুত্র ভান্তের প্রথম কথাটা শুনেই সে বুঝতে পারল এই দেশনাটা হবে একদম বিদর্শনের দেশনা। তাই সে সাধুবাদ দিল জোরেশোরে। তার সাধুবাদ শুনে সারা মহাবিশ্বের দেবতারাও পর্যায়ক্রমে সাধুবাদ দিল। এভাবে উপযুক্ত কারণ দেখলে কোনো কাজের শুরুতেই সাধুবাদ দেয়া যায়।

একজন আজকে কমেন্টস করে জানতে চাইল কখন সাধুবাদ দিতে হয়। আমি ভাবলাম পোস্টে লিখলেই ভালো হবে। তাই সেব্যাপারে একটু লিখতে বসলাম।াধুবাদ দিয়ে পুণ্যার্জন করুন।

1 thought on “সাধুবাদ কখন দিতে হয়?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *