আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

সমকামিতা, বিজ্ঞান ও বৌদ্ধধর্ম

আজ সকালে একজন একটা ভিডিওর লিংক পাঠালো। ভিডিওটাতে একজন মোল্লা কর্তৃক এক ছেলের যৌন হয়রানির কথা উঠে এসেছে। সোজা বাংলায় যাকে বলে সমকামিতা। আমি ইন্টারনেটে একটু খোঁজ নিলাম এব্যাপারে।

উইকিপিডিয়া বলছে, সমলিঙ্গের ব্যক্তির প্রতি রোমান্টিক আকর্ষণ অথবা সমলিঙ্গের ব্যক্তির সাথে যৌনাচারকে বলা হয় সমকামিতা। বিজ্ঞানীরা নাকি এমন অস্বাভাবিক যৌনআকর্ষণের কারণ সম্পর্কে এখনো ঠিক জানেন না। তবে তারা বিশ্বাস করেন, এটি হয় মূলত দেহের হরমোন ও জেনেটিক্স বা জিনগত কারণে। এছাড়া পরিবেশের প্রভাবেও এরকম সমকামী আচরণ দেখা দিতে পারে। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এটিকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখা হয় নি। এ তো গেল বিজ্ঞানীদের কথা।

এবার আসুন দেখি, ত্রিপিটক কী বলে। ত্রিপিটকে সমকামী ব্যক্তিদেরকে পণ্ডক বলা হয়ে থাকে। অনেকেই মনে করেন, ছোটবেলায় বেড়ে ওঠার পরিবেশের কারণে হয়তো বড় হয়ে তাদের মধ্যে সেধরনের মানসিকতা তৈরি হয়। কিন্তু বৌদ্ধধর্মমতে সেটা ভুল ধারণা। জন্মগতভাবেই এদের মধ্যে এধরনের সমকামী মানসিকতা থাকে। অতীত কর্মের কারণেই জন্মগতভাবে তাদের সেধরনের মানসিকতা হয় (মহাবর্গ অ.১০৫)। বিজ্ঞানও কিন্তু বলে, হরমোন ও জিনগত কারণেই জন্মগতভাবে এরকম মানসিকতা তৈরি হয়। যদিও কেন হরমোন ও জিনগুলো সেরকম অস্বাভাবিক আচরণ করে, বিজ্ঞান তার কোনো উত্তর দিতে পারে না। অথচ বৌদ্ধধর্ম সেটার কারণও নির্দেশ করে দিয়েছে এই বলে, সেটা হচ্ছে তাদের পূর্বকৃত কর্মের ফলে।

বিভিন্ন ধর্মে সমকামী ব্যক্তিদেরকে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এমনকি তাদের জন্য মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত কার্যকর করা হয়ে থাকে। তবে বৌদ্ধধর্ম স্বাধীন ধর্ম হওয়ায় এটি গৃহী সমকামীদের ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করে না। বরং অন্যান্যদের মতোই তাদেরকেও দান ও শীল পালন করতে উৎসাহিত করা হয়ে থাকে।

মহাবর্গ অর্থকথামতে, অহেতুক ব্যক্তি হওয়ায় সমকামী মনমানসিকতার ব্যক্তিদের প্রজ্ঞা জন্মগতভাবেই দুর্বল হয়। ফলে সারা জীবন ধরে চেষ্টা করলেও তারা ধ্যানলাভ করতে পারে না, মার্গফল লাভ করতে পারে না। জন্মগতভাবে অস্বাভাবিক মানসিকতার কারণে এদেরকে প্রব্রজ্যা বা উপসম্পদা দেয়াও নিষিদ্ধ। তবে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে কোনো বাধা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *