আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

জাত বেঁচে না থাকলেও ধর্ম বাঁচে

বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে একের পর এক খুনোখুনি হচ্ছে। পাহাড়িরা মরছে। এদিকে আবার ভিক্ষু ও শ্রামণ হয়ে রয়েছে কয়েক হাজার পুরুষ। ফলে পাহাড়িদের মধ্যে ছেলের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে মেয়েরাও নাকি গণহারে বাঙালি বিয়ে করছে। বাঙালি বিয়ে করলে তাদের ছেলেমেয়েরা আর পাহাড়ির বংশ হবে না। এভাবেই দিন দিন পাহাড়িরা কমে যাচ্ছে পাহাড়ের বুকে। অনেকেই তাই আফসোস নিয়ে লেখে, ভিক্ষু শ্রামণরা প্রব্রজ্যা ফেলে বিয়ে করলে অন্তত কয়েকটা পাহাড়ি ছেলেমেয়ে বাড়ত। তাতে জাত ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা পেত। আমি তাদের লেখাগুলো পড়ি আর ভাবি, আসলেই কী তাই? ভিক্ষুরা সব কাপড় ছেড়ে বিয়ে করে ডজন ডজন বাচ্চার বাপ হলেই কি জুম্মদের অবস্থা পাল্টাবে? সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, বুদ্ধের আমলেও কিন্তু এরকম গুজব রটেছিল। তখন বুদ্ধ কী করেছিলেন?

ঘটনাটা হচ্ছে এরকম। বুদ্ধত্ব লাভের পরে যশ নামের এক উচ্চবংশীয় যুবক ও তার চুয়ান্ন জন অভিজাত বন্ধু তাদের স্ত্রী ও পিতামাতাকে ফেলে ভগবান বুদ্ধের কাছে প্রব্রজ্যা নিয়েছিল। এরপরে আরো ত্রিশজন রাজকুমার একসাথে প্রব্রজ্যা নিল। সেই ত্রিশজন রাজকুমার নাকি রূপে গুণে ভদ্র বা সুন্দর ছিল। আর তারা যেখানেই যেত একদল হয়ে যেত। তাই তাদেরকে ডাকা হতো ভদ্রবর্গীয় নামে। সেই ভদ্রবর্গীয় ত্রিশজন রাজকুমারও ভিক্ষু হয়ে গেল। এরপরে বহুজনের পূজনীয় তিন কাশ্যপ ভাইও তাদের এক হাজার শিষ্যসহ বুদ্ধের কাছে প্রব্রজ্যা নিল।

রাজগৃহে সঞ্জয় পরিব্রাজক তখন খুব বিখ্যাত ছিল। লোকজন তাকে প্রচুর মানত, শ্রদ্ধা করত। তার ছিল আড়াইশ শিষ্য। কিন্তু সারিপুত্র ও মোগ্গলায়ন সেই আড়াইশ শিষ্যদের সবাইকে নিয়ে বুদ্ধের কাছে প্রব্রজ্যা নিলেন।

লোকজন দেখল দলে দলে পুরুষেরা বুদ্ধের কাছে গিয়ে প্রব্রজ্যা নিয়ে ভিক্ষু হয়ে যাচ্ছে। তাও প্রায় সবাই হচ্ছে উচ্চবংশীয়, ধনীর ছেলে, রাজার ছেলে। এভাবে চললে তো বংশ উজাড় হয়ে যাবে। সংসারে আলো জ্বালানোর মতোও কেউ থাকবে না। তাই মানুষেরা নিন্দা ও সমালোচনা শুরু করে দিল, ‘শ্রমণ গৌতম লোকজনকে পুত্রহীন করার কাজে লিপ্ত হয়েছেন। মেয়েদেরকে বিধবা বানানোর কাজে লিপ্ত হয়েছেন। বংশ উজাড় করে দেয়ার কাজে লিপ্ত হয়েছেন। জটিলেরা একহাজার শিষ্য নিয়ে তার কাছে প্রব্রজ্যা নিয়েছে। এখন সঞ্জয়ের আড়াইশ শিষ্যও তার কাছে প্রব্রজ্যা নিল। আরো অন্যান্য বহু অভিজাত উচ্চবংশের সন্তান এই শ্রমণ গৌতমের কাছে প্রব্রজ্যা নিয়ে আছে।’

ভিক্ষুদেরকে দেখলেই তারা গাথার সুরে সুরে বিদ্রুপ করে বলতে শুরু করল,
মহাশ্রমণ রাজগৃহে এসে গেছেন।
সঞ্জয়ের সবাইকে ধরে নিয়ে গেছেন।
এবার কাকে নিয়ে যাবেন কে জানে!

ভিক্ষুরা তা শুনে বুদ্ধের কাছে গিয়ে ব্যাপারটা জানাল। তখন বুদ্ধ এর জবাবে তাদেরকে একটা গাথা শিখিয়ে দিলেন,
তথাগত হচ্ছেন মহাবীর।
তিনি ধর্মতঃই তাদেরকে নিয়ে যাচ্ছেন।
তা জেনে এত ঈর্ষা কীসের?

এমন প্রতিউত্তর শুনে মানুষজন তখন বুঝল, তারা স্বেচ্ছায়ই বুদ্ধের কাছে চলে যাচ্ছে। সেটা ধর্মসম্মত ব্যাপার। এতে কারো কোনো ঈর্ষা করার কথা নয়। তাই এক সপ্তাহ পরেই সেরকম আর সমালোচনা হলো না। (বিনয়পিটকের মহাবর্গ.৬৩)

আমাদের বর্তমান পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও এই একই অবস্থা। কেউ তো আর কাউকে জোর করে ভিক্ষু করাচ্ছে না। যাদের ইচ্ছা তারা বিভিন্ন কারণবশত ভিক্ষু হচ্ছে। জাত বংশ উজাড় হয়ে যাবে তাই বিয়ে করতে হবে এমন দৃষ্টিভঙ্গি বৌদ্ধধর্ম সমর্থন করে না। বুদ্ধগণ ক্ষণিকের তরেও এই ভবসংসারে বেঁচে থাকার প্রশংসা করেন না।

তারপরেও অনেকেই মনে করে, জাত বেঁচে না থাকলে ধর্ম বাঁচবে কী করে? সেটা তাদের ভুল ধারণা। বৌদ্ধধর্মের ধারক ও বাহক ছিল শাক্যবংশ। বুদ্ধের জীবিত অবস্থাতেই সেই শাক্যবংশ উজাড় হয়ে গেল। তাই বলে কি বৌদ্ধধর্ম বিলুপ্ত হয়েছে? এই খাঁটি বৌদ্ধধর্মকে হাজার বছর ধরে বাঁচিয়ে রেখেছিল শ্রীলঙ্কানরা। তারা কি শাক্যবংশ? মনে তো হয় না। এরপরে আদি অকৃত্রিমভাবে বৌদ্ধধর্ম ধরে রেখেছে বার্মিজরা। তারা কি শাক্যবংশ? ইতিহাস থেকে দেখা যায়, বার্মিজরা এই বৌদ্ধধর্মকে ত্রিপিটক সহকারে লুট করে এনেছিল মুন জাতির রাজাদের কাছ থেকে। এরপর তারা সেই লুট করে আনা বৌদ্ধধর্মটাকেই হাজার বছর ধরে আঁকড়ে ধরে থাকলো।

বর্তমানে ইংল্যাণ্ড ও আমেরিকায় আজান চাহ এর ইংলিশ শিষ্যরা পিণ্ডচারণ করতে যায়। কট্টরভাবে বিনয়ের নিয়মগুলো মেনে চলে। তাদের কারণেই সেই দেশগুলোতে সীমিত পরিসরে হলেও বৌদ্ধধর্ম ছড়িয়ে গেছে। কথা হচ্ছে তারাও কি শাক্যবংশ?

সোজা কথায়, বৌদ্ধধর্মকে কোনো বংশ বা জাতি রক্ষা করতে পারে না।তারা সহায়ক হয় মাত্র। সেটা রক্ষার মূল দায়িত্ব হচ্ছে বৌদ্ধভিক্ষুদের। বৌদ্ধভিক্ষুরা যতদিন যথাযথ ধর্মবিনয় মেনে চলবে ততদিন বৌদ্ধধর্ম টিকে থাকবে পৃথিবীর বুকে। সেটা মহাপরিনির্বাণের সময়ে বুদ্ধই বলে দিয়ে গেছেন। প্রাচীন স্থবিরগণও বারে বারে বলে গেছেন, ‘লজ্জী ভিক্ষুরাই বুদ্ধশাসন রক্ষা করবে।’ কাজেই জাত ধ্বংসের দোহাই দিয়ে লোকজনের প্রব্রজ্যার বিরোধিতা করা বা ভিক্ষুদের দোষারোপ করাটা অযৌক্তিক।

6 thoughts on “জাত বেঁচে না থাকলেও ধর্ম বাঁচে

  1. বন্দনা ভান্তে। পাপ কর্ম যদি কোন ভাবেই খন্ডন না হয় এবং বুদ্ধ বুদ্ধত্ব লাভের পর ও বুদ্ধকে ১২ প্রকার কর্মবিপাক ভোগ করতে হয় তবে অঙ্গুলিমাল কিভাবে ৯৯৯ জন মানুষ হত্যার পর অরহৎ মার্গ লাভ করে।

    1. অঙ্গুলিমালের অর্হত্ব লাভের মতো পারমী ছিল, প্রজ্ঞার পরিপূর্ণতা ছিল। কিন্তু পারমী থাকাটাই যথেষ্ট নয়। বুদ্ধ করুণা করে তাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে এনেছিলেন বলেই একটামাত্র গাথায় তার হুঁশ ফিরেছে। চিন্তা করুন অজাতশত্রুর কথা। বেচারা নাকি শ্রামণ্যফল সুত্রের দেশনা শেষ হলে মার্গফল লাভ করতে পারতেন। এমনই তার পারমী ছিল। কিন্তু তার আগেই তার পিতাকে হত্যা করার ফলে সেটা তার সেই জন্মে মার্গফলের বাধা হয়ে দাঁড়ায়। গুরুকর্ম এমনই হয়। গুরুকর্ম করার পরে বুদ্ধের চীবরের কোণা ধরে সারা জনম পিছে পিছে চললেও মরণের পরে নরকেই তার গতি হয়। অঙ্গুলিমালও তার মাকে মেরে ফেললে গুরুকর্ম হতো, তখন তারও এমনই দশা হতো। সেই মানুষগুলোকে হত্যার ফলের বেশির ভাগই তাকে ফল দিত পরবর্তী জন্মগুলোতে। তবে এর কর্মবিপাক কিন্তু তাকে এই জন্মেও ভোগ করতে হয়েছে। মাঝে মাঝেই তাকে পিণ্ডচারণ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফিরতে হত। বুদ্ধ তাকে বুঝিয়ে বলতেন, এটা তার সেই ৯৯৯ জন মানুষকে হত্যারই সামান্য ফল মাত্র, যা এই জীবনে দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে। বাকি যে বিশাল কর্মশক্তি রয়ে গিয়েছিল, তা অর্হৎ না হলে কত অসংখ্য জন্ম ধরে তাকে অকালে মৃত্যুবরণ করাত, সে হিসাব কে রাখে?

      1. বন্দনা ভান্তে। অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। আমার দেখা ভান্তেদের মধ্যে আপনি হলেন একজন প্রচন্ড জ্ঞানী, প্রচার বিমুখ, ধর্মবিশারদ, ধর্মপিপাসু, সর্বোপরি একজন স্বধর্মের ধারক বাহক গুনী ভান্তে। আমি ভান্তের কাছে প্রার্থনা করি আপনি আরো বেশি বেশি পড়া এবং জানার মাধ্যমে আমাদের শুদ্ধ সঠিক বিনয়ী ধর্ম পালনে আচরনে সাহায্য করবেন আপনার লেখনি এবং দেশনার মাধ্যমে। ভান্তের কাছে একটা প্রশ্ন বুদ্ধ মূর্তির জীবন্যাস কখন থেকে শুরু হয়েছিল? ইহা কতটা যুক্তিযুক্ত? অনেকজাতি সংসার গাথাটি কি বুদ্ধ কর্তৃক দেশিত নাকি বুদ্ধের পরিনির্বাণ পরে সৃষ্ট? তদ্রুপ মোমবাতি, আগরবাতি, ফুল এবং আহারপূজা বুদ্ধের পরিনির্বাণের পরে সৃষ্ট? ইহা সৃষ্টির রহস্য বা এইসব পূজা অর্চনার কারণ কি?

        1. অনেক জাতি সংসারং… এই গাথাটি বুদ্ধের বুদ্ধত্ব লাভের পরে প্রথম বাক্য। অন্যকথায়, আদি বচন। অন্তিম বচন হচ্ছে, অপ্পমাদেন সম্পাদেথ।
          এই আদি বচনকে দিয়েই বুদ্ধমূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়ে থাকে। বার্মায় কয়েকবার আমার এরকম ঘরে ও বিহারে বুদ্ধমূর্তি প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। এটা শ্রদ্ধার পরিচয় দেয়।

          পূজাকে অবিশ্বাসের কোনো কারণ নেই। পূজার ফলে বিশ্বাস করাটা হচ্ছে সম্যকদৃষ্টি। আপনি নিশ্চয়ই মঙ্গলসুত্রে পড়েছেন, পূজনীয়কে পূজা করা উত্তম মঙ্গল। পূজনীয় কারা? সাধারণ লোকজনের কাছে শ্রমণ ব্রাহ্মণ মাত্রেই পূজনীয়। তাই বুদ্ধ ও তার শিষ্যগণও পূজনীয়। মহাপরিনির্বাণ সুত্রে বুদ্ধ আনন্দকে বলেছিলেন, পূজার মাধ্যমে তাদের প্রতি মনে শ্রদ্ধা উৎপন্ন করলে মরণের পরে তা সুগতির দিকে নিয়ে যায়।

          পূজা সাধারণত দুই প্রকার হয়। আমিষ পূজা ও নিরামিষ পূজা। আমিষ পূজা হচ্ছে দ্রব্যসামগ্রী দিয়ে পূজা। নিরামিষ পূজা হচ্ছে তাদের উপদেশ অনুযায়ী চলা, বা সোজা কথায় ধর্মানুকুল জীবন যাপন করা।

          আরেকটা বিষয় লক্ষণীয়। পূজনীয় ব্যক্তিকে হয়তো জীবিত থাকার সময়ে হয়তো দ্রব্যসামগ্রী দিয়ে পূজা করা যায়, কিন্তু মূর্তিকে পূজা করতে হবে কেন? খাদ্য, পানীয় সেগুলো তো মূর্তিরা খায় না, পরে না। লাভ কী ওসবে?

          লাভ আছে। সেগুলো মূর্তি নয়, জাদী। চার ধরনের জাদী আছে। তাদের মধ্যে বুদ্ধমূর্তি বা সীবলি মূর্তি হচ্ছে উদ্দেশিক জাদী। তাদের উদ্দেশ্যে সেসব জাদীতে পূজা করলেও পুণ্য হয়। সেটা আপনি নির্বাণের জন্য করুন বা পরীক্ষায় পাসের জন্য করুন যাই করুন না কেন। পূজা হচ্ছে পূজা। এর ফল আপনি পাবেনই। মহাপরিনির্বাণ সুত্রে বুদ্ধ বলেছিলেন, বুদ্ধ ও তার শিষ্য এবং চক্রবর্তী রাজা মৃত্যুর পরে চৈত্য বা জাদী বানালে সেটা বহুজনের পুণ্যের কারণ হয়।

          তবে বুদ্ধ কিন্তু আমিষ পূজার চেয়ে নিরামিষ পূজাকেই গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি যখন পরিনির্বাণ শয্যায় শায়িত ছিলেন তখন দেবতাগণ ফুল ছিটিয়ে, বাদ্য বাজিয়ে, গান দিয়ে পূজা করছিলেন। কিন্তু বুদ্ধ বলেছিলেন এভাবে পূজা করলে প্রকৃত পূজা হয় না। যথাযথভাবে ধর্ম পালন করলে, অর্থাৎ শীল ও সমাধির চর্চা করলে সেটাই হয় পরম বুদ্ধপূজা। তাই কেউ বুদ্ধকে আমিষ দিয়ে পূজা করে, কেউ নিরামিষ পূজা করে। সেটা যার যার আগ্রহ বা ঝোঁক যেদিকে, সে সেরকম করে। কোনোটাকেই অবজ্ঞা করার উপায় নেই। উভয়ই কুশল পুণ্যকর্ম। পাঅক সেয়াদ নিজ হাতে বুদ্ধ সিয়ং দান করে এরপর একটুক্ষণের জন্য ভাবনায় বসেন। তারপর খাওয়া শুরু করেন। এখন আপনি কি পূজাকে মানবেন নাকি মানবেন না সেটা আপনার ইচ্ছা।

  2. ভান্তেকে বন্দনা নিবেদন করছি। আমার একটা প্রশ্নের উত্তর জানার খুব আগ্রহ আর তা হলো আমাদের বুদ্ধের দ্বিতীয় অগ্রস্রাবক মহা মোগদগলায়ন ভান্তে অরহৎ হয়েও কেন বা পূর্ব জন্মের কোন হেতুতে উনি হত্যাজনিত কষ্ট ভোগের পর পরিনির্বাণ লাভ করেছিলেন? আমি যতটুকু জানি চার প্রকারের পাপকর্ম থেকে কেউ মুক্ত হতে পারে না আর তা হলো– ১) বুদ্ধের শরীরে রক্তপাতের সৃষ্টি করে, ২) পিতৃ হত্যা, ৩) মাতৃহত্যা, এবং ৪) সংঘভেদ। এই চার প্রকারের পাপ কর্ম বিদর্শন ভাবনাতে খন্ডন হয়না।

    1. আমাদের অনেকেরই এধরনের ধারণা আছে যে বিদর্শন ভাবনাতে নাকি পাপকর্মগুলো খণ্ডন হয়। সেটা একটা ভুল ধারণা মাত্র। বৌদ্ধমতে, কর্ম সেটা পাপকর্ম হোক বা পুণ্যকর্ম হোক, সেটাকে খণ্ডন করা যায় না। কর্মের শক্তি অনুসারে নিজস্ব নিয়মে সেটা সময় এবং সুযোগ পেলেই ফল দিয়ে থাকে। অর্হৎ হলেও তা থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। বুদ্ধের যে ১২ প্রকার কর্মবিপাক ভোগ করতে হয়েছে সেটা একটু ভাবুন তো। বুদ্ধ কি তাহলে বিদর্শন ভাবনা করেন নি? মোগ্গল্লায়ন ভান্তে তার পিতামাতাকে হত্যার যে কর্মবিপাক ভোগ করতে হয়েছে সেটাও এর উদাহরণ। মোগ্গল্লায়ন ভান্তে কি পুণ্যকর্ম করেন নি? তাই পাপকর্ম থেকে বাঁচার একটাই উপায়, তা হচ্ছে পাপকর্ম পারতপক্ষে না করা, এবং প্রচুর পরিমাণে পুণ্যকর্ম করা, মনে প্রাণে পুণ্যকর্ম করা।

Leave a Reply to Ven. Gansanta Bhikkhu Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *