আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

বুদ্ধমূর্তি ও জাদী ইত্যাদির অলৌকিকত্বের কারণ

কাপ্তাইয়ের চিৎমরমের সত্যবুদ্ধের কথা মনে হয় সবাই জানেন। ছোট্ট এই পার্বত্য চট্টগ্রামে আরো অনেক সত্যবুদ্ধ আছেন, জীবন্ত বুদ্ধ আছেন যাদের অলৌকিকত্বের কাহিনী লোকের মুখে মুখে। এসব বুদ্ধমূর্তিতে মানত করলে, পূজা করলে, টাকা দান দিলে নাকি সত্য হয়। প্রার্থিত জিনিস লাভ হয়। সেজন্য অনেকেই এসব স্থানে দান দিতে যায়, মানত করতে যায়।

আচ্ছা, বৌদ্ধদের কথা না হয় বাদ দিলাম। হিন্দুদের যেসমস্ত মূর্তি আছে, মন্দির আছে, শিবলিঙ্গ ইত্যাদি আছে, সেগুলোও তো অলৌকিক ঘটনা দেখায় বলে শুনি। যিশুখ্রীস্টের মূর্তি, মেরীর মূর্তি, খ্রিস্টান সাধুসন্তদের অনেক মূর্তিও সেরকম অলৌকিক ঘটনা দেখায় বলে জেনেছি। মুসলিমরাও নাকি আকাশে কত কত অলৌকিক ঘটনা দেখে। আর সম্প্রতি এক হিন্দু মেয়ে নাকি রামজাদীর ছবি তুলে দেখে জাদীর পিছনে বিশাল বড় বড় চোখ! গুরুবাদী ভক্তরা সেই ছবি দেখে হৈ হৈ করে ফেসবুকে ফলাও করে প্রচার করে দিল, দেখো রামজাদীর কী অপার মহিমা। দেবতা স্বয়ং দেখা দেন। আরো কত কী। অথচ পরে জানা গেল সেটা মোবাইলের ক্যামেরা এ্যাপসের কারসাজি। ঐ এ্যাপসের মাধ্যমে ফোনে ছবি তুললে সেরকম চোখ দেখা দেয়। আর অন্ধ গুরুভক্তরা সাধুবাদ দিতে দিতে অজ্ঞান হয়।

কিন্তু সত্যিই কি এসব জাদী, বুদ্ধমূর্তি ইত্যাদিতে অলৌকিকত্ব বলে কিছু আছে? নাগসেন ভান্তেকে মিলিন্দরাজা ঠিক এই প্রশ্নটা করেছিলেন। তখন নাগসেন ভান্তে উত্তর দিয়েছিলেন, কোনো অর্হৎ যদি বেঁচে থাকা অবস্থায় অধিষ্ঠান করে যান, ‘এই জাদীতে এমন অলৌকিক ঘটনা ঘটুক’, তখন অর্হতের অধিষ্ঠানের ফলে জাদীতে অলৌকিক ঘটনা দেখা যায়।

অন্যদিকে দেবতারাও মানুষদেরকে অনুকম্পা করে অলৌকিক ঘটনা দেখায়, ‘এই অলৌকিক ঘটনার দ্বারা সদ্ধর্ম নিত্য পরিপূর্ণ হবে, শ্রদ্ধাবান মানুষেরা কুশল পুণ্যকর্মের মাধ্যমে সমৃদ্ধি লাভ করবে।’ এভাবে দেবতাদের কারণেও জাদীতে অলৌকিক ঘটনা দেখা যায়।

আবার কোনো শ্রদ্ধাবান নারী বা পুরুষ জাদীতে সুগন্ধি বা ফুল বা মালা বা যেকোনো কিছু দান করে অধিষ্ঠান করে, ‘এমন হোক।’ তার অধিষ্ঠানের কারণেও জাদীতে সেরকম অলৌকিক ঘটনা দেখা যায় (মিলিন্দ প্রশ্ন=> অনুমানপ্রশ্ন)।

মিলিন্দ প্রশ্নে যদিও শুধু জাদীর কথা বলা হয়েছে, তবে জাদী বাদেও বিভিন্ন সত্যবুদ্ধ, জীবন্ত বুদ্ধ, অন্যান্য পবিত্র জায়গা ইত্যাদির ক্ষেত্রেও এই তিনটার যেকোনো একটি কারণে অলৌকিক ঘটনা দেখা যেতে পারে।

[[[ তাই কোনো জাদী বা বুদ্ধমূর্তিকে ঘিরে কোনো অর্হৎ যদি অধিষ্ঠান করেন, অথবা কোনো দেবতা যদি অধিষ্ঠান করে তখন সেই জাদী বা বুদ্ধমূর্তিতে অলৌকিক ঘটনা দেখা যায়। তখন সেখানে প্রার্থনা করলে, মানত করলে তা সত্য হয়। সেটা বাদেও কোনো শ্রদ্ধাবান উপাসক যদি সেই জাদী বা বুদ্ধমূর্তিকে শ্রদ্ধাভরে বন্দনা ও পূজা করে কোনোকিছু অধিষ্ঠান বা মানত করে, তাহলে তার অধিষ্ঠানের বলেও তার মানত সত্য হয়। ]]]

তাই বৌদ্ধধর্মের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়- জাদীতে, বুদ্ধমূর্তিতে, বুদ্ধ এবং বিভিন্ন অর্হতের ধাতুকে ঘিরে অলৌকিক ঘটনা ঘটা সম্ভব। কিন্তু এই ডিজিটাল যুগে ফটোশপ ও বিভিন্ন এ্যাপসের মাধ্যমে যেসব অলৌকিক ঘটনা রেকর্ড ও প্রচার করা হচ্ছে সেগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা কতটুকু তা বিবেচ্য বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *