আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

ভিক্ষুর জেগে থাকার নিয়ম কী?

একজন মেসেজ দিয়ে জানতে চাইল ভিক্ষু কীভাবে জাগরণে নিযুক্ত হয় সেটা যেন আমি অর্থকথা থেকে ব্যাখ্যা করে দিই। অর্থাৎ ভিক্ষুর জেগে থাকার নিয়ম কী?

সেটার জন্য অর্থকথায় যেতে হবে না। ত্রিপিটকেরই মধ্যম নিকায়ের মূলপঞ্চাশকে মহাঅশ্বপুর সুত্র (ম.নি.৪১৫-৪৩৪) আছে। সেখানে বলা হয়েছে, ভিক্ষুর এভাবে পরিকল্পনা করা উচিত, ‘জাগরণে নিযুক্ত হবো। সারা দিন চঙ্ক্রমণে ও বসে বসে পঞ্চনীবরণ থেকে চিত্তকে পরিশুদ্ধ করব। রাতের প্রথম যাম চঙ্ক্রমণে ও বসে বসে পঞ্চনীবরণ থেকে চিত্তকে পরিশুদ্ধ করব। রাতের মধ্যম যাম ডান পাশে কাত হয়ে সিংহশয্যার মতো করে পায়ের উপর পা রেখে, স্মৃতিমান ও সম্প্রজ্ঞানী হয়ে, জেগে উঠার সংকল্প করে শুয়ে পড়ব। রাতের শেষ যামে উঠে গিয়ে চঙ্ক্রমণ ও বসে বসে পঞ্চনীবরণ থেকে চিত্তকে পরিশুদ্ধ করব।’ এভাবেই ভিক্ষুদের শিক্ষা করা উচিত।

আমি অবশ্য দুপুরে খেয়েদেয়ে মাঝেমধ্যে একটু ঘুম দিই। রাতে মাঝে মাঝে ৮.০০টা বাজতেই ঘুমিয়ে পড়ি। তবে সকালে সবসময় ৩টা বা ৪টা বাজে উঠে যাই।বুদ্ধের রুটিনটা মেনে চলা বড়ই কঠিন।

বাড়তি তথ্য (অলসদের পড়ার দরকার নেই)
————————————————
রাতের সময়টাকে তিন ভাগে ভাগ করলে প্রতিটি ভাগ হয় এক একটি যাম। সন্ধ্যা থেকে ১০টা পর্যন্ত প্রথম যাম। ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত মধ্যম যাম। রাত ২টা থেকে সকাল হওয়া পর্যন্ত শেষ যাম।

বাংলায় প্রচলিত প্রহরের সাথে বৌদ্ধদের যাম এক নয়। প্রহর হয় ৩ ঘণ্টার। কিন্তু যাম হয় ৪ ঘন্টার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *