আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

শ্রামণদের দশশিক্ষাপদ, দণ্ডকর্ম এবং দশ নাশের কারণ

আগের কয়েকটা পোস্টে প্রব্রজ্যা কাদের দেয়া যায় না, কাদের দেয়া উচিত নয় কিন্তু দিলেও সমস্যা নেই, এবং কীভাবে প্রব্রজ্যা দিতে হয় সেব্যাপারে লিখেছিলাম। এবার এখানে প্রব্রজ্যা দেয়ার পরে শ্রামণদের দশশীল, তাদেরকে কখন কীভাবে দণ্ডকর্ম দিতে হয়, কখন তাদেরকে চীবর ফেলে দিতে হয় সেব্যাপারে লিখব।
শ্রামণের দশশীল
শ্রামণদের উচ্চতর শীল, উচ্চতর সমাধি ও উচ্চতর প্রজ্ঞা শিক্ষার উপায় হিসেবে ভগবান বুদ্ধ দশটি শিক্ষাপদ বেঁধে দিয়েছেন। সেগুলো হচ্ছে-
১) প্রাণিহত্যা বিরতি – প্রাণি মানে হচ্ছে সত্ত্ব বা জীব। কিন্তু পারমার্থিকভাবে বুঝায় জীবিতিন্দ্রিয়কে। প্রাণিহত্যা মানে হচ্ছে প্রাণিকে প্রাণি বলে মনে করে তার জীবিতিন্দ্রিয় শেষ করে দেয়ার প্রচেষ্টাকালে কায়দ্বারে বা বাক্যদ্বারে চলতে থাকা হত্যাচেতনা। সেধরনের প্রাণিহত্যা থেকে বিরত থাকার সময়ে যে কামাবচর কুশলচিত্ত সংযুক্ত বিরতি সেটাই হচ্ছে প্রাণিহত্যা বিরতি।
২) অদত্ত বস্তু গ্রহণ বিরতি – যা দেয়া হয় নি তা গ্রহণ করাটাই হচ্ছে অদত্ত বস্তু গ্রহণ। এর মাধ্যমে পরের জিনিস হরণ করা, চুরি করাও বুঝায়। অপরের জিনিসকে অপরের জিনিস হিসেবেই মনে করে উৎপন্ন চুরিচেতনা হচ্ছে অদত্তবস্তু গ্রহণ। সেধরনের অদত্তবস্তু গ্রহণ থেকে বিরত থাকার সময়ে যে কামাবচর কুশলচিত্ত সংযুক্ত বিরতি সেটাই হচ্ছে অদত্তবস্তু গ্রহণ বিরতি।
৩) অব্রহ্মচর্য বিরতি – যৌনসংসর্গের উদ্দেশ্যে যৌনমিলনকালে কায়দ্বারে চলতে থাকা চেতনা হচ্ছে অব্রহ্মচর্য। সেধরনের অব্রহ্মচর্য থেকে বিরত থাকার সময়ে যে কামাবচর কুশলচিত্ত সংযুক্ত বিরতি সেটাই হচ্ছে অব্রহ্মচর্য বিরতি।
৪) মিথ্যাবাক্য বিরতি – অসত্য বিষয়কে বলার ইচ্ছায় বিজ্ঞপ্তি বা বাচনিক প্রকাশ থেকে উৎপন্ন চেতনা হচ্ছে মিথ্যাবাক্য। সেধরনের মিথ্যাবাক্য থেকে বিরত থাকার সময়ে যে কামাবচর কুশলচিত্ত সংযুক্ত বিরতি সেটাই হচ্ছে মিথ্যাবাক্য বিরতি।
৫) মদ্যপান বিরতি – সুরা হচ্ছে পাঁচ প্রকার। পিঠাসুরা, ময়দাসুরা, ভাতসুরা, মিষ্টিসুরা, মিশ্রসুরা। পাত্রে পিঠাগুলো রেখে সেখানে পানি দিয়ে ভিজিয়ে মর্দন করে রেখে দিলে যে সুরা পাওয়া যায় তা হচ্ছে পিঠাসুরা। ময়দা সুরা, ভাত সুরাও হচ্ছে সেরকম। উপরোক্ত সুরাগুলোতে মিষ্টি জাতীয় জিনিস মিশিয়ে দিলে সেটা হয় মিষ্টিসুরা। উপরোক্ত যেকোনো সুরার সাথে হরিতকি, সরিষার বীজ ইত্যাদি নানান উপাদান মিশিয়ে দিলে সেটা হয় মিশ্রিত সুরা।
মদ হচ্ছে ফুল ফল ইত্যাদির রস থেকে তৈরি পানীয়। এগুলো মত্ততা সৃষ্টি করে বলে এদেরকে বলা হয় মদ। মদ হচ্ছে পাঁচ প্রকার। ফুলের মদ, ফলের মদ, আঙুরের মদ, গুড়ের মদ, মিশ্রিত মদ। মধুক, তাল, নারিকেল ইত্যাদি ফুলের সুবাসিত রস তৈরি মদ হচ্ছে ফুলের মদ। কাঁঠাল ইত্যাদি ফলের রস থেকে তৈরি মদ হচ্ছে ফলের মদ। আঙুরের রসের মদ হচ্ছে আঙুরের মদ। আখের রস থেকে তৈরি মদ হচ্ছে গুড়ের মদ। হরিতকি, আমলকি ও বিভিন্ন মশলা জাতীয় উপকরণ মিশিয়ে তার রস থেকে তৈরি মদ হচ্ছে মিশ্রিত মদ।
উপরোক্ত সুরা ও মদ পানের চেতনা হচ্ছে মদ্যপান। সেধরনের মদ্যপান থেকে বিরত থাকার সময়ে যে কামাবচর কুশলচিত্ত সংযুক্ত বিরতি সেটাই হচ্ছে মদ্যপান বিরতি।
৬) বিকালে ভোজন বিরতি – অরুণোদয় থেকে মধ্যাহ্ন সময় পর্যন্ত হচ্ছে বুদ্ধ ও আর্যগণের আচরিত ভোজনকাল। অন্য সময় হচ্ছে বিকাল। যাবকালিক খাদ্যভোজ্য, যেমন- যাগু, ভাত ইত্যাদি বিকালে ভোজনকালে চলতে থাকা চেতনা হচ্ছে বিকালে ভোজন। সেধরনের বিকালে ভোজন থেকে বিরত থাকার সময়ে যে কামাবচর কুশলচিত্ত সংযুক্ত বিরতি সেটাই হচ্ছে বিকালে ভোজন বিরতি।
৭) নাচ গান বাদ্য ও প্রদর্শনী দর্শন বিরতি – নাচ গান দেখাটা বুদ্ধের উপদেশের সাথে খাপ খায় না। নাচ গান ও বাদ্যের সাথে সাথে নিজে গাওয়া, অন্যকে দিয়ে গান গাওয়ানো, নিজে বাজানো, অন্যকে দিয়ে বাদ্য বাজানো ইত্যাদি ভিক্ষু বা ভিক্ষুণীর পক্ষে ঠিক নয়। সেইসমস্ত নাচ গান ইত্যাদি চলাকালে সেগুলো থেকে বিরত থাকার সময়ে যে কামাবচর কুশলচিত্ত সংযুক্ত বিরতি সেটাই হচ্ছে নাচ গান বাদ্য ও প্রদর্শনী দর্শন বিরতি। নিজের অবস্থান থেকে সেগুলো দেখা বা শোনা গেলে এই শীল ভঙ্গ হয় না। কিন্তু সেগুলো দেখা বা শোনার জন্য সেদিকে গিয়ে দেখলে তখন তা ভঙ্গ হয়।
৮) ফুল সুগন্ধি প্রসাধনী দিয়ে সাজগোজ থেকে বিরতি – ফুল, মালা, সুগন্ধি, প্রসাধনী ইত্যাদি গায়ে দেয়া, মাখা, সাজগোজ করা ইত্যাদি যেমনটা সাধারণ লোকেরা করে থাকে সেরকম সাজগোজ থেকে বিরত থাকার সময়ে যে কামাবচর কুশলচিত্ত সংযুক্ত বিরতি সেটাই হচ্ছে ফুল সুগন্ধি প্রসাধনী দিয়ে সাজগোজ থেকে বিরতি।
৯) উচ্চশয্যা মহাশয্যা বিরতি – বুদ্ধের আঙুলের মাপে আট আঙুলের অতিরিক্ত উঁচু খাট, আসন ইত্যাদিকে বলা হয় উচ্চশয্যা। বিছানা ও আসনে তুলা, অকপ্পিয় চাদর ইত্যাদি বিছালে সেটা হয় মহাশয্যা। সেরকম উচ্চশয্যা ও মহাশয্যায় বসা ও শোয়া থেকে বিরত থাকার সময়ে যে কামাবচর কুশলচিত্ত সংযুক্ত বিরতি সেটাই হচ্ছে উচ্চশয্যা মহাশয্যা বিরতি।
১০) সোনারূপা গ্রহণ বিরতি – সোনা হচ্ছে সোনা। রূপার মধ্যে প্রচলিত সব ধরনের টাকাপয়সা অন্তর্ভুক্ত। সেগুলো গ্রহণ দেহের দ্বারা হয়, বাক্যের দ্বারা হয়, মনে মনেও হয়। এগুলোর কোনোভাবে গ্রহণই ঠিক নয়। এধরনের সোনা ও টাকাপয়সা গ্রহণ থেকে বিরত থাকার সময়ে যে কামাবচর কুশলচিত্ত সংযুক্ত বিরতি সেটাই হচ্ছে সোনারূপা গ্রহণ বিরতি। (মহাবর্গ.১০৬)
শ্রামণের দণ্ডকর্ম কখন হয়? কীভাবে দণ্ডকর্ম দিতে হয়?
শ্রামণের দশটি শিক্ষাপদের মধ্যে প্রথম পাঁচটি ভঙ্গ করলে লিঙ্গনাশের কারণ হয়। এগুলোর মধ্যে প্রাণিহত্যার ক্ষেত্রে সামান্য পিঁপড়া বা ছারপোকার ডিম মারলেও সে লিঙ্গনাশের যোগ্য হয়। চুরির ক্ষেত্রে সামান্য ঘাস বা শলাকা চুরি করলেও সে লিঙ্গনাশের যোগ্য হয়। ব্যভিচার করলে তো কোনো কথাই নেই। সে তখন লিঙ্গনাশের যোগ্য হয়। সামান্য মজা বা রসিকতার ছলে মিথ্যা বললেও সে অশ্রামণ হয়ে যায়। সে তখন লিঙ্গনাশের যোগ্য হয়। মদপানের ক্ষেত্রে ভিক্ষুরা না জেনে মদপান করলেও পাচিত্তিয় অপরাধ হয়। কিন্তু শ্রামণদের ক্ষেত্রে জেনেশুনে মদপান করলে তবেই শীল ভঙ্গ হয়, সে তখন লিঙ্গনাশের যোগ্য হয়। না জেনে মদপান করলে শ্রামণের শীল ভঙ্গ হয় না।
শেষের পাঁচটি শিক্ষাপদ ভঙ্গ করলে লিঙ্গনাশের যোগ্য হয় না, তবে দণ্ডকর্মের যোগ্য হয়। অর্থাৎ বিকালে ভোজন করলে, নাচ গান দেখলে, সুগন্ধি প্রসাধনী ব্যবহার করলে, উচ্চশয্যা মহাশয্যা ব্যবহার করলে, সোনা ও টাকাপয়সা ব্যবহার করলে দণ্ডকর্মের যোগ্য হয়।
এছাড়াও ভিক্ষুর অলাভের জন্য চেষ্টা করলে, ভিক্ষুর ক্ষতির জন্য চেষ্টা করলে, ভিক্ষুকে বাসস্থান থেকে তাড়ানোর চেষ্টা করলে, ভিক্ষুকে আক্রোশ করলে, ভিক্ষুদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করলে তখনও সে দণ্ডকর্মের যোগ্য হয়। (মহাবর্গ.১০৭)
দণ্ডকর্ম হিসেবে তাদেরকে একটা নির্দিষ্ট জায়গায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া যায়। তবে সমগ্র বিহারে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া যায় না। বরং সে যেখানে বসবাস করে (যেমন, কুটির, শয্যা ইত্যাদি) সেখানে, অথবা পরিবেণ বা শিক্ষার আবাস থাকলে সেখানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া যায়।
দণ্ডকর্ম হিসেবে ‘খেয়ো না, ভোজন করো না’ এভাবে নিষেধাজ্ঞা দেয়া যায় না। বরং অবাধ্য শ্রামণকে দণ্ডকর্ম দিয়ে তাকে যাগু বা ভাত বা পাত্রচীবর দেখিয়ে বলা যায়, ‘এই দণ্ডকর্ম করা শেষ হলে এগুলো পাবে।’
ভগবান বুদ্ধ দণ্ডকর্ম হিসেবে কেবল নিষেধাজ্ঞার কথা বলেছেন। ধর্মসংগ্রাহক স্থবিরগণ কিন্তু অপরাধ অনুসারে পানি-কাঠ-বালু ইত্যাদিও আহরণ করানো যায় বলেছেন। তবে সেগুলোও কিন্তু কেবল তার প্রতি অনুকম্পাবশত যাতে সে সেগুলো থেকে বিরত হয়, সেউদ্দেশ্যে দেয়া উচিত। বিনষ্ট হোক, ঘরে ফিরে যাক ইত্যাদি পাপমূলক উদ্দেশ্য নিয়ে তাকে দণ্ডকর্ম হিসেবে গরম পাথরের উপর শুয়ে পড়তে বলা, অথবা মাথায় পাথর, ইট ইত্যাদি ছুঁড়ে মারা, অথবা পানিতে ডোবানো উচিত নয়।
তবে ভিন্ন গুরুর শ্রামণদেরকে এভাবে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যায় না। তাদের গুরুকে অন্তত তিনবার বলতে হয়, ‘আপনার শ্রামণটি এই অপরাধ করেছে। আপনি তাকে দণ্ডকর্ম দিন।’ তিনবার বলেও যদি তার গুরু কিছু না করেন, তাহলে ভিক্ষু নিজেই সেই শ্রামণকে দণ্ডকর্ম দিতে পারে। কিন্তু গুরু যদি শুরুতেই বলে দেন, ‘আমার শ্রামণদের কোনো দোষ দেখলে তুমিই দণ্ডকর্ম দিও।’ তাহলে আর গুরুকে জানানোর দরকার হয় না। সরাসরি দণ্ডকর্ম দেয়া যায়। শুধু শ্রামণদেরকে নয়, নিজের সতীর্থ ভিক্ষু এবং শিষ্যদেরও এভাবে দণ্ডকর্ম দেয়া যায়। (মহাবর্গ.১০৭)
এছাড়াও অন্য গুরুর শিষ্যদের ‘তোমাদেরকে পাত্র দেব, চীবর দেব’ এভাবে ফুসলিয়ে নিজের দলে ভেড়ালে দুক্কট আপত্তি হয়। সে শ্রমণ হোক বা ভিক্ষু হোক, এমনকি দুঃশীল গুরুর শিষ্য হলেও এভাবে ভুলিয়ে ভালিয়ে নিজের দলে টানা ঠিক নয়। দুঃশীল গুরুর শিষ্য হলে তাকে কেবল বলা যায়, ‘তুমি তো দুঃশীলের সাথে আছ। গোসলের জন্য এসে যেন পায়খানা মেখে আছ।’ সে যদি এমন কথা বুঝে নিয়ে নিজেই এসে আশ্রয় চায় বা উপাধ্যায় বদল করতে চায় তাহলে তাকে আশ্রয় দেয়া উচিত। (মহাবর্গ.১০৮)
শ্রামণ কখন লিঙ্গনাশের যোগ্য হয়? কখন শ্রামণের চীবর ফেলে দিতে হয়?
নিম্নোক্ত দশটি নাশযোগ্য বিষয় থাকলে সেই শ্রামণ লিঙ্গনাশের যোগ্য হয়। তখন সেই শ্রামণের চীবর ফেলে দেয়া যায়। সেগুলো হচ্ছে, যদি সে –
১) প্রাণিহত্যা করে,
২) চুরি করে,
৩) যৌনসংসর্গে লিপ্ত হয়,
৪) মিথ্যাবাদী হয়,
৫) মদ পান করে,
৬) বুদ্ধের নিন্দা করে,
৭) ধর্মের নিন্দা করে,
৮) সঙ্ঘের নিন্দা করে,
৯) মিথ্যাদৃষ্টি সম্পন্ন হয়,
১০) ভিক্ষুণীদূষক হয়। (মহাবর্গ.১০৮)
এগুলোর মধ্যে প্রাণিহত্যা ইত্যাদি প্রথম পাঁচটির যেকোনো একটি কর্ম করলেও তার লিঙ্গনাশ বা চীবর ত্যাগ করানো উচিত। ভিক্ষুদের যেরকম প্রাণিহত্যা ইত্যাদি নানাধরনের অপরাধ হয়, ফলে সেরকম অপরাধ হলেও দোষ স্বীকার করলে অপরাধের প্রতিকার করতে পারে, শ্রামণদের সেরকম অপরাধ নেই। তাই শ্রামণ যদি সামান্য পিঁপড়াও মেরে ফেলে, ছারপোকার ডিমও ভেঙে ফেলে, তাতেও সে শ্রামণত্ব হারায়, লিঙ্গনাশের যোগ্য হয়। সেই সেখানেই তার ত্রিশরণ গ্রহণ, উপাধ্যায় গ্রহণ, বাসস্থান গ্রহণ সবই বিনষ্ট হয়, সঙ্ঘের লাভ গ্রহণের অধিকার হারায়। কেবল শ্রামণের চিহ্ন মাত্র অবশিষ্ট থাকে। সে যদি এধরনের কর্ম প্রচুর পরিমাণে করতে থাকে, পরবর্তীতেও সংযত না হয়, তিনবার বলার পরেও সেগুলো থেকে বিরত না হয়, তাহলে সঙ্ঘের মতামত নিয়ে তার চীবর ফেলে দেয়া উচিত। আবার যদি সে প্রব্রজ্যা চায়, তখনো সঙ্ঘের মতামত নিয়ে তবেই প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত।
কিন্তু তিনবার এভাবে বারণ করাতে যদি সে ভুল বুঝতে পেরে আবার সংযত হয়ে থাকতে ইচ্ছে করে, তাহলে আর চীবর ফেলে দেয়ার দরকার নেই। সে যেভাবে অন্তর্বাস ও চীবর পরে আছে সেভাবেই তাকে যথানিয়মে আবার ত্রিশরণ দিতে হবে। উপাধ্যায় গ্রহণ করাতে হবে। তার ত্রিশরণ গ্রহণের সাথে সাথেই শিক্ষাপদগুলোও আবার নতুন করে গৃহীত হয়।
শ্রামণদের ত্রিশরণ গ্রহণ হচ্ছে ভিক্ষুদের উপসম্পদা কর্মবাচার মতো। উপসম্পদা কর্মের মাধ্যমে যেমন ভিক্ষুদের চারি পরিশুদ্ধি শীল গৃহীত হয়, তেমনি শ্রামণদের বেলায় এই ত্রিশরণ গ্রহণের মাধ্যমেই দশশীলও গৃহীত হয়ে থাকে। তবুও সেটাকে আরো সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যে এবং ভবিষ্যতে সংযত হওয়ার জন্যে পুনরায় দশশীল দেয়া কর্তব্য।
যদি বর্ষাবাসের আগেই তার ত্রিশরণ আবার গৃহীত হয়ে থাকে, তাহলে বর্ষাবাসের মধ্যে যেসমস্ত দানীয় সামগ্রী সেগুলোর ভাগ সে পায়। কিন্তু যদি বর্ষাবাসের মধ্যে আবার তার ত্রিশরণ গ্রহণ করতে হয়, তখন তার বর্ষাবাস ছিন্ন হয়। তখন সঙ্ঘের অনুমোদন সাপেক্ষে তাকে দানীয় সামগ্রীর ভাগ দেয়া উচিত।
পরবর্তী পাঁচটি বিষয়ের ক্ষেত্রে বুদ্ধ অর্হৎ নন, সম্যকসম্বুদ্ধ নন ইত্যাদি অগুণ বলে বেড়ালে, অথবা ধর্ম সুব্যাখ্যাত নয়, সঙ্ঘ সঠিক পথে নেই ইত্যাদি ত্রিরত্নের অগুণ বলে বেড়ালে তখন তার আচার্য বা উপাধ্যায়ের তাকে সেভাবে বললে কী কী দোষ হয় সেগুলো দেখিয়ে সেরকম বলতে বারণ করা উচিত। মহাঅর্থকথামতে, এভাবে তিনবার বুঝিয়ে বললে যদি তার এমন আচরণ পরিত্যাগ করে তাহলে ভালো। তখন তাকে দণ্ডকর্ম দিয়ে দোষ স্বীকার করাতে হবে। যদি আচরণ বা সেরকম কর্ম ত্যাগ না করে, বরং আরো একগুঁয়ে হয়ে বলতে থাকে, তাহলে লিঙ্গনাশের মাধ্যমে চীবর ফেলে দিতে হবে।
মিথ্যাদৃষ্টিক শ্রামণের ক্ষেত্রেও উপরোক্ত নিয়মেই করতে হবে। শ্বাশত দৃষ্টি বা উচ্ছেদদৃষ্টি থাকলে তখন তার আচার্য বা উপাধ্যায় বুঝিয়ে বললে যদি তা পরিত্যাগ করে তাহলে দণ্ডকর্ম দিয়ে দোষ স্বীকার করাতে হবে। যদি ত্যাগ না করে, তাহলে লিঙ্গনাশের মাধ্যমে চীবর ফেলে দিতে হবে।
লিঙ্গনাশের সর্বশেষ কারণটি হচ্ছে ভিক্ষুণীর সাথে যৌনসংসর্গে লিপ্ত হলে। সাধারণত শ্রামণ যদি অন্যদের সাথে যৌনসংসর্গে লিপ্ত হয় তাহলে পরবর্তীতে সংযত হওয়ার জন্য তাকে আবার ত্রিশরণ দিয়ে উপসম্পদাও দেয়া যায়। কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ভিক্ষুণীদূষক হলে সে আর প্রব্রজ্যা লাভেরও যোগ্য হয় না। উপসম্পদা তো দূরের কথা। (মহাবর্গ অর্থকথা.১০৮)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *