আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

প্রব্রজ্যা ও উপসম্পদা দেয়া অনুচিত এমন ব্যক্তিদের কথা

Dhammaram Bhikkhu ধম্মারাম ভান্তে অনেক বার মেসেজের মাধ্যমে প্রব্রজ্যাপ্রার্থীদের ব্যাপারে জানতে চেয়েছিলেন। বৌদ্ধভিক্ষুবিধি বইটিও নাকি তার অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে নি। তার অনুরোধে সেব্যাপারে দুয়েকদিন সময় নিয়ে বিনয়পিটকের মহাবর্গ, এর অর্থকথা এবং সারত্থদীপনী টীকা থেকে প্রাসঙ্গিক অনুচ্ছেদগুলো অনুবাদ করে দিলাম। আশা করি আগ্রহীদের কিছুটা হলেও কাজে লাগবে। কোনো কিছু জানতে চাইলে কমেন্টস করলেই হবে।
এই লেখায় প্রব্রজ্যা ও উপসম্পদা দেয়া অনুচিত এমন ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনা করেছি। তবে অনুচিত হলেও তাদেরকে যদি প্রব্রজ্যা ও উপসম্পদা দেয়া হয় তাহলে তারা ঠিকই সুষ্ঠুভাবে প্রব্রজিত বলে গণ্য হয়, যথাযথ ভিক্ষু বলে গণ্য হয়। পরবর্তী লেখাগুলোতে যাদের প্রব্রজ্যা ও উপসম্পদা একদম নিষিদ্ধ, যাদেরকে অজান্তে ভিক্ষু করলেও ভিক্ষু বলে গণ্য হয় না তাদের নিয়ে লিখব। এছাড়াও প্রব্রজ্যার প্রক্রিয়া নিয়েও লিখব। তবে আপাতত আসুন, এখানে কাদেরকে প্রব্রজ্যা ও উপসম্পদা দেয়া অনুচিত তা জেনে নিই।
—১. মা-বাবার অনুমতিহীন ব্যক্তি—
কারোর মা-বাবা অনুমতি না দিলে তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। যদি জনক জননী দুজনেই বেঁচে থাকেন দুজনের কাছ থেকেই অনুমতি নিতে হবে। যদি দুজনের কোনো একজন মারা গিয়ে থাকেন তাহলে যিনি বেঁচে আছেন তার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। সেই পিতা বা মাতা যদি প্রব্রজিত হয়ে থাকেন তাহলেও তার কাছে গিয়ে অনুমতি নিতে হবে।
অনুমতি চাওয়ার ক্ষেত্রে নিজেই গিয়ে অনুমতি চাইতে পারে, অথবা অন্য কাউকে পাঠাতে পারে এই বলে, ‘যাও, আমার বাবা-মায়ের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে এসো।’ সে যদি এসে বলে, অনুমতি দিয়েছে, তাহলে নিঃশ্চিন্তে প্রব্রজ্যা দেয়া যায়।
তবে পিতা প্রব্রজিত হয়ে পুত্রকে প্রব্রজ্যা দিতে চাইলে তার মাকে না বলেই প্রব্রজ্যা দিতে পারে। অথবা মা প্রব্রজিত হয়ে কন্যাকেও প্রব্রজ্যা দিতে চাইলে পিতাকে না বলেই প্রব্রজ্যা দিতে পারে।
পিতা যদি স্ত্রী-পুত্র ফেলে পালিয়ে যায়, মা তখন তার পুত্রকে প্রব্রজ্যার জন্য ভিক্ষুদের কাছে দেয়, ‘এর পিতা কোথায়?’ বললে যদি বলে, ‘মনের খুশিতে পালিয়ে গেছে’ তাহলে সেই পুত্রকে প্রব্রজ্যা দেয়া যায়। মা যদি কোনো পুরুষের সাথে পালিয়ে যায়, পিতা তখন তার পুত্রকে প্রব্রজ্যার জন্য দেয়, তখনো সেভাবে প্রব্রজ্যা দেয়া যায়।
পিতা যদি অনুপস্থিত থাকে, এদিকে মাতা তার পুত্রকে প্রব্রজ্যার অনুমতি দেয়, তখন ভিক্ষুরা যদি বলে, ‘এর পিতা কোথায়?’ তখন মাতা যদি বলে, ‘এর পিতা নিয়ে কী হবে? সেটা আমি জানব।’ তখন তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া যায় বলে কুরুন্দি অর্থকথায় বলা হয়েছে।
পিতামাতা মৃত, ছেলেটি ছোটমাসী ইত্যাদির কাছে বড় হয়েছে, তার প্রব্রজ্যা দিতে গিয়ে যদি আত্মীয়স্বজনরা ঝগড়া বাঁধায় অথবা ক্ষুদ্ধ হয়, তা নিবারণের জন্য তাদের অনুমতি নিয়েই প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত। তবে তাদের অনুমতি না নিয়ে প্রব্রজ্যা দিলেও কোনো অপরাধ হয় না। ছোটবেলায় দত্তক নেয়া মাতাপিতার ক্ষেত্রেও একই কথা। অর্থাৎ তাদের অনুমতি নেয়া উচিত বটে কিন্তু না নিলেও বিনয়মতে কোনো অপরাধ হয় না।
রাজা হলেও পিতামাতার অনুমতি নিয়ে তবেই প্রব্রজ্যা দিতে হয়।
কেউ যদি মাতাপিতার অনুমতি নিয়ে প্রব্রজ্যা নেয়, কিন্তু পরে আবার গৃহী হয়ে যায়, এভাবে শতবার প্রব্রজিত হয়ে আবার গৃহী হলেও যতবার আসবে ততবারই মাতাপিতার অনুমতি নিতে হবে। তারা যদি বলে, ‘এ তো ঘরে ফিরলেও কোনো কাজ করে না। ওদিকে প্রব্রজ্যা নিলেও আপনাদের ব্রত পূরণ করে না। এর জন্য অনুমতি চাওয়ার দরকার নেই। এলেই প্রব্রজ্যা দেবেন।’ এভাবে বলে দিলে পরবর্তীতে অনুমতি না নিয়েই প্রব্রজ্যা দেয়া যায়।
ছোট থাকতেই যদি তার পিতামাতা বলে, ‘একে আপনাদের কাছে দিয়ে দিলাম। যখন ইচ্ছে প্রব্রজ্যা দিয়ে দেবেন।’ তখন সে এমনিতেই প্রব্রজ্যার জন্য প্রদত্ত হয়ে যায়। সে যখনই আসে তখনই বিনা অনুমতিতে প্রব্রজ্যা দেয়া যায়। তবে ছোটবেলায় সেরকম বলে বড় হয়ে যদি আর তার পিতামাতা সেরকম অনুমতি না দেয়, তখন আর অনুমতি ব্যতীত প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়।
কেউ যদি মা-বাবার সাথে ঝগড়া করে এসে বলে, ‘আমাকে প্রব্রজ্যা দিন’ তাকে বলতে হবে, ‘অনুমতি নিয়ে এসো।’ কিন্তু সে যদি বলে, ‘আমি যাব না। প্রব্রজ্যা না দিলে বিহার পুড়িয়ে দেব, ছুরি দিয়ে আপনাদের কোপাব, আপনাদের জ্ঞাতী ও দায়কদের আরামকে বেআরাম বানিয়ে ছাড়ব, গাছ থেকে ঝাঁপ দিয়ে মরব, চোর ডাকাত হয়ে যাব, দেশান্তরী হয়ে যাব’ এরকম বললে তার জীবন রক্ষার্থে হলেও তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত। যদি তার পিতামাতা এসে বলে, ‘আমাদের পুত্রকে কেন প্রব্রজ্যা দিয়েছেন?’ তখন তাদেরকে ব্যাপারটা খুলে বলার পরে বলা উচিত, ‘তাকে বাঁচানোর জন্যই প্রব্রজ্যা দিয়েছি। আপনাদের পুত্রকে জিজ্ঞেস করুন না।’ কিন্তু কেউ যদি গাছ থেকে পড়ে মরার জন্য সত্যিই গাছে উঠে বসে তখন তার হাত পা ধরে গাছ থেকে নামিয়ে প্রব্রজ্যা দেওয়া উচিত।
কেউ যদি বিদেশে গিয়ে প্রব্রজ্যা চায়, যদি মা-বাবার কাছ থেকে প্রব্রজ্যার অনুমতি নিয়ে যায় তাহলে প্রব্রজ্যা দেয়া যায়। অনুমতি নিয়ে না গেলে কোনো তরুণ ভিক্ষুকে পাঠিয়ে অনুমতি নিয়ে তবেই প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত। যদি সেটা অতিদূরে হয় তাহলে প্রব্রজ্যা দিয়েও ভিক্ষুদের সাথে তাকে অনুমতির জন্য পাঠিয়ে দেয়া উচিত। কুরুন্দি অর্থকথায় কিন্তু বলা হয়েছে, ‘যদি বহু দূরের পথ হয়, বিপদসংকুল পথ হয়, তাহলে গিয়ে অনুমতি নেয়ার উদ্দেশ্য করেই প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত।’
মাতাপিতার বহু পুত্রসন্তান থাকলে যদি তারা বলে, ‘ভান্তে, এই পুত্রদের মধ্যে যাকে মনে হয় তাকে প্রব্রজ্যা দিন।’ তখন যাকে ইচ্ছা তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া যায়।
—২. পঞ্চরোগগ্রস্ত ব্যক্তি—
কুষ্ঠ, ফোঁড়া, একজিমা, যক্ষা, মৃগীরোগ থাকলে তাদেরকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। তবে এক্ষেত্রেও কিছু বিবেচ্য বিষয় আছে।
কুট্ঠ বা কুষ্ঠ রোগের মধ্যে লাল কুষ্ঠ অথবা কালো কুষ্ঠ, দাদ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। সেগুলো আকারে নখের চেয়ে বড় হলে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। তবে সেগুলো আকারে নখের চেয়ে ছোট হলে এবং অন্তর্বাস ও চীবর দিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ঢাকা পড়ে এমন স্থানে হলে তাহলে প্রব্রজ্যা দেয়া যায়। তবে মুখে অথবা হাত বা পায়ের পৃষ্ঠে যদি নখের চেয়ে ছোট কুষ্ঠও হয় তবুও প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয় বলে কুরুন্দি অর্থকথায় উল্লেখিত হয়েছে। সেগুলোর চিকিৎসা করে ত্বকের স্বাভাবিক রং ফিরে আসলে তবেই প্রব্রজ্যা দেয়া যায়। গুইসাপের পিঠের মতো সারা শরীরে বিচিত্র ছোপ ছোপ দাগ থাকলে তাদেরকেও প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়।
গণ্ড মানে হচ্ছে ফোঁড়া। যে কোনো ফোঁড়া যদি বরইবিচির চেয়ে বড় হয় তাহলে তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। তবে সেটা যদি বরইবিচির চেয়ে ছোট হয় এবং চীবর দিয়ে ঢাকা পড়ে এমন স্থানে হয় তাহলে প্রব্রজ্যা দেয়া যায়। মুখ ইত্যাদি খোলা স্থানে বরইবিচির চেয়ে ছোট ফোঁড়া থাকলেও প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। চিকিৎসা করিয়ে চামড়ার স্বাভাবিক রং ফিরে আসলে তবেই প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত। একধরনের ফোঁড়া আছে গরুর স্তনের মতো বা আঙুলের মতো লম্বা লম্বা হয়ে থাকে। সেরকম থাকলে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। কৈশোরে অথবা যৌবনকালে মুখে যে ফোঁড়াগুলো হয়, বুড়োকালে কিন্তু থাকে না, সেগুলোও ফোঁড়ার মধ্যে গণ্য হয়। তবে সেগুলো থাকলেও প্রব্রজ্যা দেয়া যায়। তবে সারা শরীরে সরিষা বীজের মতো ছোট ছোট ফোঁড়া দেখা যায়। সেগুলো কুষ্ঠের শ্রেণিতে পড়ে। সেগুলো থাকলে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়।
কিলাস বা একজিমা হচ্ছে লাল লাল কুষ্ঠের মতো। শরীর তখন চিত্রবিচিত্র ছোপওয়ালা গরুর চামড়ার মতো দেখায়। সেটাও ঐ কুষ্ঠের মতো করেই বিবেচনা করে প্রব্রজ্যা দিতে হবে।
সোসো হচ্ছে যক্ষারোগ। সেটা থাকলে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়।
অপমার বা মৃগীরোগ হচ্ছে পিত্তজনিত অথবা যক্ষজনিত মৃগীরোগ। সেগুলো অতীত জন্মের শত্রুতাবশত অমনুষ্য আক্রান্ত হওয়ার কারণে চিকিৎসা করেও লাভ হয় না। সামান্য মৃগীরোগ থাকলেও তাই তাদেরকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়।
—৩. রাজকর্মচারী—
রাজকর্মচারী বলতে রাজার যেকোনো মন্ত্রী বা সেবক বা রাজার বেতনধারী যেকোনো ব্যক্তিকে বুঝায়। এদেরকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। বর্তমানে এর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ এবং সরকারী চাকুরিজীবিরাও অন্তর্ভুক্ত। তবে তাদের সন্তান বা নাতিনাতনি অথবা ভাই ইত্যাদি যারা রাজার বেতনধারী নয় তাদেরকে প্রব্রজ্যা দেয়া যায়।
আর যারা রাজার জন্য নিত্য অথবা প্রতি মাসে অথবা প্রতি বছরে বিভিন্ন জিনিস যোগান দেয় তারা যদি সেই দায়িত্বটা রাজার কাছেই হস্তান্তর করে দেয়, অথবা নিজের সন্তান বা ভাইকে সেই দায়িত্ব দিয়ে রাজাকে জানায়, ‘আমি আর আপনার বেতনভোগী নই’ অথবা যেকাজের জন্য রাজা বেতন দেয় সেই কাজ যদি সমাপ্ত হয়ে যায়, তাহলে তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া যায়।
অথবা রাজকর্মচারী হলেও রাজা যদি প্রব্রজ্যার অনুমতি দেয় তাহলেও প্রব্রজ্যা দেয়া যায়।
—৪. কুখ্যাত চোর-ডাকাত—
কুখ্যাত চোর ডাকাত ছিনতাইকারীদের প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। যারা গ্রাম লুট করে, পথে ডাকাতি বা ছিনতাই করে, শহরে নগরে সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে চুরি ডাকাতি করে এবং তাদের নামে প্রচার হয় ‘অমুক নামের লোকটি এই এই কাজ করেছে’ এমন হলে তাদেরকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়।
অথবা কোনো চোর বা ডাকাতের নামে যদি সরকারের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা জারি করা হয়, ‘একে দেখলেই হত্যা করো’ অথবা সে কোনো রাজঅপরাধ করে পালায়, ফেরারী আসামী হয়, তার নামে আদেশ জারি করা হয়, ‘একে যেখানেই দেখবে সেখানেই হত্যা করবে,’ অথবা ‘একে যেখানেই দেখবে সেখানেই হাতপা কেটে দেবে’, অথবা ‘একে যেখানেই দেখবে সেখানেই তার কাছ থেকে এই এই দণ্ড আদায় করে নেবে’ এমন কুখ্যাত চোরডাকাতকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়।
তবে কোনো রাজপুত্র যদি রাজ্য ফেরত চাইতে গিয়ে গ্রাম ইত্যাদি আক্রমণ করে তাহলে তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া যায়। এমন রাজপুত্র প্রব্রজিত হলে রাজাও খুশি হন। কিন্তু রাজা যদি অখুশি হন তাহলে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়।
কেউ যদি আগে চোর হিসেবে লোকজনের কাছে পরিচিত হয় এবং পরবর্তীতে চুরিডাকাতি ত্যাগ করে পঞ্চশীল ইত্যাদি গ্রহণ করে, মানুষজনও তাকে সেভাবে জেনে যায়, তখন তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া যায়।
তবে যারা আম, কাঁঠাল ইত্যাদি চুরি করে, কিন্তু তাদের চুরি করার কথা কেউ জানে না, তাদেরকে প্রব্রজ্যা দেয়া যায়।
—৫. কারাগার ভেঙে পালানো আসামী—
কারাগার বলতে এখানে নানা ধরনের বন্ধনে বন্দী করে রাখার ঘরকে বুঝায়। বন্দী বলতে চার দেয়ালে বন্দী, শেকলে বন্দী, দড়ির বাঁধনে বন্দী, গ্রামবন্দী, গঞ্জবন্দী, শহরবন্দী, প্রহরী দ্বারা বন্দী, এলাকাবন্দী অথবা সমগ্র দ্বীপবন্দী বুঝায়। যে এমন বন্দীদশা ভেঙে গোপনে বা প্রকাশ্যে পালিয়ে আসে, তাকে বলা হয় কারাগার ভেঙে পলায়নকারী। এভাবে কারাগার ভেঙে পলায়নকারী ব্যক্তি যদি চোর ডাকাত হয় তাহলে তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। কিন্তু সে যদি চোর ডাকাত না হয়, বরং রাজা তাকে একটা কাজ করতে বললেও সে তা করতে অস্বীকার করেছে। তাই রাজযোদ্ধারা তাকে বন্দী করে রেখেছে। সে এমন বন্দী অবস্থা থেকে পালিয়ে এলে তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া যায়।
যারা গ্রাম গঞ্জ ঘাট ইত্যাদি রাজার কাছ থেকে লিজ নিয়ে চুক্তি অনুযায়ী কাজ না কারণে কারাগারে বন্দী ছিল, তারা পালিয়ে আসলেও প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। যারা কৃষি, বাণিজ্য ইত্যাদির মাধ্যমে ধন উপার্জন করলেও কারো চক্রান্তের কারণে মিথ্যা অজুহাতে বন্দী ছিল, তারা পালিয়ে আসলে তৎক্ষণাৎ তাদেরকে সেখানে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। বরং সেখান থেকে অন্য কোথাও পালিয়ে গেলে সেখানেই তার প্রব্রজ্যার ব্যবস্থা করা উচিত।
—৬. রাজদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী—
যারা রাজার আদিষ্ট কাজ করে নি বলে শাস্তিপ্রাপ্ত হয়েছে তাদেরকে রাজদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী বলা যায় না। বরং যারা রাজার কাছ থেকে চুক্তি মোতাবেক কোনো কিছু গ্রহণ করে তা আর পরিশোধ করতে পারে না, তার ফলে বেত মারার শাস্তি পায়, অথবা গরম লোহা দ্বারা শরীরে মার্কা মেরে দেয়া হয় তাদেরকেই বলা হয় রাজদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী।
বেত বা লাঠি ইত্যাদির যেকোনো কিছু দিয়ে মারা হলে দেহে যতদিন পর্যন্ত ঘা বা ক্ষত দেখা যায় ততদিন পর্যন্ত তাদেরকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। সেই ক্ষত স্বাভাবিক হয়ে এলে তখন প্রব্রজ্যা দেয়া যায়। যদি হাঁটু বা কনুইয়ে নারিকেল বা পাথর দিয়ে মেরে মেরে ছেড়ে দেয়া হয়, তাতে যদি তার শরীরে গিঁট দেখা দেয়, তাহলে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। সেগুলো ভালো হয়ে গেলে তবেই প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত।
যাদের নলা অথবা উরু ইত্যাদিতে তপ্ত লোহা দিয়ে মার্কা মেরে দেয়া হয়েছে তার ক্ষতগুলো যতদিন পর্যন্ত থাকে ততদিন পর্যন্ত প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। তার ক্ষতগুলো ভালো হলে, চামড়ার সাথে একসমান হয়ে গেলে, চিহ্নগুলো আর দেখা না গেলে, চীবর পারুপণ করলে সেগুলো যদি আর দেখা না যায়, তখন প্রব্রজ্যা দেয়া যায়। কিন্তু যদি সেগুলো দেহের প্রকাশ্য স্থানে হয় তাহলে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়।
—৭. ঋণী ব্যক্তি—
ঋণী ব্যক্তিদের প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। তবে এখানেও অনেকগুলো বিবেচ্য বিষয় আছে।
ঋণ যদি তার বাপ অথবা দাদু নিয়ে থাকে, অথবা সে নিজেই ঋণ নিয়ে থাকে, অথবা তার মাধ্যমে তার বাবা-মা কোনো ঋণ গ্রহণ করে থাকে সে তখন ঋণী ব্যক্তি হয়। এমন ঋণী ব্যক্তিকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। কিন্তু তাকে দিয়ে অন্যান্য আত্মীয়স্বজন যদি কোনোকিছু গ্রহণ করে তাদের জন্য সে ঋণী হয় না। সেই ঋণ শোধের জন্য সে দায়ী নয়। তাই তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত।
তবে ঋণী ব্যক্তি হলেও তার কোনো আত্মীয়স্বজন যদি ‘আমরা তার ঋণগুলো দিয়ে দেব, আপনারা তাকে প্রব্রজ্যা দিন’ এভাবে বলে তার ঋণের ভার নিয়ে থাকে, তাহলে প্রব্রজ্যা দেয়া যায়। অথবা তার স্বভাব চরিত্র দেখে কেউ যদি বলে, ‘তাকে প্রব্রজ্যা দিন, তার ঋণগুলো আমিই দিয়ে দেব’, সেক্ষেত্রে তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া যায়।
সেরকম ঋণের ভার নেয়ার মতো কেউ না থাকলে ভিক্ষুদের তখন কোনো স্বচ্ছল গৃহী সেবককে বলা উচিত, ‘এই লোকটির হেতু আছে। কিন্তু ঋণের কারণে প্রব্রজ্যা নিতে পারছে না।’ তা শুনে সেবক যদি তার ভার নিতে পারে, তাহলে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত। যদি সেই ঋণী ব্যক্তির কোনো কপ্পিয় জিনিস থাকে এবং বলে, ‘ঋণ চাইতে আসলে এটা দেব’ তাহলে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত।
কিন্তু যদি তার আত্মীয়স্বজন তার ঋণের ভার না নেয়, তার নিজের ধনও না থাকে, অথচ বলে, ‘প্রব্রজ্যা নিয়ে ভিক্ষা করে করে ঋণ শোধ করে দেব’ তখন তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। যদি প্রব্রজ্যা দেয়, তাহলে গুরুর দুক্কট অপরাধ হয়। প্রব্রজ্যার পরে পালিয়ে গেলেও তখন তাকে ধরে এনে ঋণ শোধ করে দিতে হবে। না দিলে সবগুলো ঋণ তখন গুরুর গলায় কাঁটার মতো হয়ে থাকে।
না জেনে প্রব্রজ্যা দিলে তখন অবশ্য গুরুর কোনো অপরাধ হয় না। কিন্তু পরবর্তীতে জানলে তখন তাকে ধরে নিয়ে তার ঋণদাতাদের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত। না দেখলে অবশ্য সেটা আর গুরুর জন্য কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় না।
ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি যদি অন্যদেশে প্রব্রজ্যা নিতে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেও বলে, ‘আমার কারো কাছে কোনো ঋণ নেই’। তখন যদি তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া হয়, অথচ ঋণদাতা তাকে খুঁজে খুঁজে সেখানে পৌঁছে যায়। এদিকে ঋণদাতাকে দেখে সে ভয়ে পালিয়ে যায়। ঋণদাতা তখন তার গুরুর কাছে গিয়ে বলে, ‘এই লোকটিকে কে প্রব্রজ্যা দিয়েছে? সে তো আমার ধন নিয়ে পালিয়ে এসেছে।’ তখন গুরুর বলা উচিত, ‘হে উপাসক, সে বলেছে তার কোনো ঋণ নেই, তাই আমিই তাকে প্রব্রজ্যা দিয়েছি। আমার কী করার আছে বলুন। এই যে দেখুন তার পাত্রচীবর।’ পালিয়ে গেলে তখন সেটা আর গুরুর জন্য কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় না।
কিন্তু যদি গুরুর সামনে তাকে দেখে উপাসক বলে, ‘এ তো আমার কাছে ঋণী’ তখন বলা উচিত, ‘তোমার ঋণী ব্যক্তিকে কী করবে সেটা তুমিই ভালো জানো।’ এভাবে বললে সেটা আর গুরুর জন্য কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় না। উপাসক যদি বলে, ‘প্রব্রজ্যা নিয়ে এখন সে কোথায় যাবে?’ তখন গুরুর বলা উচিত, ‘সেটা তুমিই জেনে নাও।’ কিন্তু গুরু যদি বলেন, ‘কোথায় আর যাবে? এখানেই থাকবে।’ অথচ সে পালিয়ে যায় তখন সেটা গুরুর জন্য কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু সে যদি ব্রতপরায়ণ হয়, সুন্দর স্বভাব চরিত্রের হয়, তাহলে গুরুর তার প্রশংসা করে বলা উচিত, ‘এ এমন এমন।’ উপাসক যদি তা শুনে সাধুবাদ দিয়ে ঋণ মাফ করে দেয় তো ভালো। কিন্তু মাফ করে না দিয়ে যদি বলে, ‘কিছু হলেও দিন।’ তাহলে কিছু দিয়ে দিতে হবে। পরবর্তীতে যদি উপাসক আবার বলে, ‘সবটুকু দিয়ে দিন’ তখন সবটুকুই দিয়ে দিতে হবে। কিন্তু যদি সে ত্রিপিটক শিক্ষা ইত্যাদিতে দক্ষ হয়, ভিক্ষুদের বহু উপকারী হয়, তাহলে ভিক্ষা করে করে হলেও তার ঋণ শোধ করে দেয়া উচিত।
—৮. দাস/চাকর—
যারা কারো দাস বা চাকর তাদেরকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। তবে এখানেও বিবেচ্য বিষয় আছে।
চার প্রকার দাস রয়েছে। জন্মগত দাস, ক্রীতদাস, যুদ্ধবন্দী দাস, স্বয়ংদাস।
জন্মগত দাস হচ্ছে ঘরের দাসীর পুত্র। ক্রীতদাস হচ্ছে কারো মা-বাবাকে ধন দিয়ে তার বিনিময়ে তাদের সন্তানকে দাস হিসেবে কিনে নেয়া। অথবা কোনো মালিকের দাসকে ধন দিয়ে কিনে এনে নিজের দাস বানিয়ে নেয়া। জন্মগত দাস ও ক্রীতদাসদের প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। প্রব্রজ্যা দিতে হলে তাদেরকে আগে দাসত্ব থেকে মুক্ত করে তবেই প্রব্রজ্যা দিতে হবে।
রাজা যখন অন্যরাজ্য লুট করে সেদেশের মানুষদের ধরে নিয়ে আসে অথবা নিজ রাজ্যের মধ্যেই অপরাধের কারণে কোনো গ্রামের সকল মানুষদের ধরে নিয়ে আসে, তারা হচ্ছে যুদ্ধবন্দী দাস। মেয়েরা হয় যুদ্ধবন্দী দাসী। যারা এদেরকে ধরে নিয়ে আসে তারা যদি এদেরকে তাদের কাছে রাখে, অথবা কোথাও বন্দী করে রাখে, অথবা লোকজন দিয়ে পাহারা দিয়ে রাখে, তাহলে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। কিন্তু তারা যদি সেখান থেকে পালিয়ে যায়, তাহলে যেখানে পালিয়ে যায় সেখানে তাদেরকে প্রব্রজ্যা দেয়া যায়। রাজা যদি খুশি হয়ে তাকে বন্দীদশা থেকে মুক্ত করে দেন, অথবা সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে দেন, তাহলে সেসমস্ত যুদ্ধবন্দী দাসদেরকে প্রব্রজ্যা দেয়া যায়।
যারা জীবিকার তাগিদে অথবা জীবন রক্ষার তাগিদে নিজেই কারো কাছে গিয়ে বলে, ‘আমি আপনার দাস’ তাকে বলা হয় স্বয়ংদাস। এদেরকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। রাজাগণ বিহারের জন্য দাস বা চাকরবাকর দেন। তাদেরকেও প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। তাদেরকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করে তবেই প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত।
দুর্গত মানুষজন সঙ্ঘকে আশ্রয় করে বাঁচতে পারব এই ভেবে বিহারে কপ্পিয়কারক বা সেবক হিসেবে থাকে। তাদেরকে প্রব্রজ্যা দেয়া যায়।
যার মা – বাবা উভয়ই দাস হয়, তাদের সন্তানকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। অথবা যার মা দাসী, কিন্তু বাবা দাস নয়, তাদের সন্তানকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। কিন্তু যার মা দাসী নয়, কিন্তু বাবা দাস হয়, তাদের সন্তানকে প্রব্রজ্যা দেয়া যায়।
ভিক্ষুর জ্ঞাতি অথবা দায়ক যদি দাস দিয়ে থাকে, ‘একে প্রব্রজ্যা দিন। সে আপনাদের কাজগুলো করে দেবে।’ তাহলে তাকে মুক্ত করে দিয়েই প্রব্রজ্যা দিতে হয়।
কোনো মালিক যদি বলে, ‘এই দাসকে প্রব্রজ্যা দিন। যদি থাকতে পারে তাহলে সে মুক্ত। কিন্তু যদি প্রব্রজ্যা ত্যাগ করে তাহলে আবার আমাদের দাস হবে।’ সেরকম হলে সাময়িক দাসত্ব মুক্তি বুঝায়। সেরকম হলে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয় বলে কুরুন্দি অর্থকথায় বলা হয়েছে।
কোনো দাসের মালিক নেই। অর্থাৎ তার মালিক নিজের স্ত্রীপুত্র সহ মারা গেছেন। তাকে গ্রহণ করারও কেউ নেই। তবুও তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। তার তখন নিজেই নিজেকে মুক্তপুরুষ হিসেবে ঘোষণা করতে হয়। এভাবে তাকে মুক্ত বানিয়ে তবেই প্রব্রজ্যা দিতে হবে। অথবা সেই রাষ্ট্রের যে মালিক তার কর্তৃক তাকে স্বাধীন বানিয়ে প্রব্রজ্যা দিতে হবে। না জেনে প্রব্রজ্যা দিলে বা ভিক্ষু করলে পরে যদি জেনে যায় তাহলে তাকে মুক্ত বা স্বাধীন বানাতে হয়।
অর্থকথায় এরকম একটা ঘটনার কথা বলা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার তৎকালীন রাজধানী অনুরাধাপুরের এক দাসী একজনের সাথে থেকে পালিয়ে রোহণ জনপদে গিয়ে বাস করছিল। তাদের একটা সন্তান হলো। সে বয়স হলে প্রব্রজ্যা নিয়ে ভিক্ষু হলো। কিন্তু একদিন তার সন্দেহ হলে তার মাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘উপাসিকা, তোমাদের ভাই বা বোন নেই নাকি? কোনো আত্মীয়স্বজন দেখি না কেন?’ তার মা বলল, ‘বাবা, আমি হলাম অনুরাধাপুরের এক ঘরের দাসী। তোমার বাবার সাথে পালিয়ে এখানে এসেছি।’
ভিক্ষুটি শীলবান ছিল। সে তা জেনে তার মায়ের কাছ থেকে সেই ঘরের নাম ঠিকানা জিজ্ঞেস করে অনুরাধাপুরে গিয়ে হাজির হলো। সেই ঘরের সামনে গিয়ে দাঁড়ালে ঘর থেকে বলা হলো, ‘অন্যখানে যান ভান্তে।’ কিন্তু সে তা শুনেও গেল না। তখন তারা ঘর থেকে বেরিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘কী ব্যাপার ভান্তে?’ সে বলল, ‘আপনাদের অমুক নামের দাসী পালিয়ে গেছে নাকি?’ হ্যাঁ, ভান্তে। তখন সে বলল, ‘আমিই তার সন্তান। যদি আপনারা আমাকে অনুমতি দেন, তাহলে আমি প্রব্রজ্যা লাভ করতে পারি। আপনারা আমার মালিক।’ তারা তা শুনে খুশি হয়ে ‘আপনার প্রব্রজ্যা পরিশুদ্ধ’ এই বলে তাকে মুক্ত করে দিয়ে মহাবিহারে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে সেবা করল। সে সেভাবেই থেকে অর্হত্ব লাভ করেছিল।
—৯. ছোট বাচ্চা—
বেশি ছোট বাচ্চা হলে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। কাক তাড়াতে পারে এমন বাচ্চা হলে তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া যায়। বাচ্চার সামনে ভাতের থালা রেখে দিলে সে যদি বাম হাতে ঢিল ছুঁড়ে কাক তাড়িয়ে দিয়ে ভাত খেতে পারে তাহলেই সে প্রব্রজ্যার যোগ্য বলে গণ্য হয়। তখন তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া যায়।
—১০. হাত-ছিন্ন ইত্যাদি ব্যক্তি—
মহাবর্গ.১১৯ অনুসারে নিম্নোক্ত ব্যক্তিদেরকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়।
হাত-ছিন্ন: যার একটা বা দুটো হাতের তালু বা কব্জি বা কনুই পর্যন্ত ছিন্ন তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়।
পা-ছিন্ন: যার একটা বা দুটো পায়ের অগ্রভাগ বা পায়ের গোড়ালি বা নলা পর্যন্ত ছিন্ন তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়।
কান ছিন্ন: যার একটা বা দুটো কানের গোড়া বা বাইরের অংশটি ছিন্ন তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। যার কান ফোঁড়াতে গিয়ে কান ছিঁড়ে যায়, কিন্তু জোড়া দেয়া যায়, তখন তার সেই কান জোড়া দিয়েই প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত।
নাক ছিন্ন: যার নাকের ডগা বা নাকের একপাশ ছিন্ন, তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। তবে জোড়া দেয়া সম্ভব হলে সেটা জোড়া দিয়ে তবেই প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত।
নখ ছিন্ন: যার এক বা একাধিক আঙুলের নখ ছিন্ন, তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। তবে সামান্য সুতা পরিমাণেও নখ দেখা গেলে তখন প্রব্রজ্যা দেয়া যায়।
বৃদ্ধাঙুল ছিন্ন: যার হাতপায়ের এক বা একাধিক বুড়ো আঙুলের নখ ছিন্ন তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়।
কণ্ডরা ছিন্ন: যার কণ্ডরা নামক মহাপেশিতন্তু সামনে বা পিছনে ছিন্ন থাকে তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। যেকোনো একটা পেশিতন্তু ছিন্ন হলেও পা সমানভাবে ফেলতে পারে না। কখনো পায়ের পাতার অগ্রভাগ দিয়ে হেঁটে বেড়ায়, অথবা পায়ের গোড়ালি দিয়ে হেঁটে বেড়ায়।
ফণাওয়ালা হাত: যার আঙুলগুলো বাদুড়ের ডানার মতো পরস্পরের সাথে লেগে থাকে তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। তাকে প্রব্রজ্যা দিতে হলে অাঙুলগুলোর মাঝখানের অংশ কেটে মাঝখানের চামড়া ফেলে দিয়ে সুস্থ হলে তখন প্রব্রজ্যা দেয়া যায়।
যার ছয়টা আঙুল থাকে, তাকে প্রব্রজ্যা দিতে হলে একটা আঙুল কেটে ফেলে দিয়ে সুস্থ হলে তখন প্রব্রজ্যা দেয়া যায়।
কুঁজো: যার দেহের বুক বা পিঠ বা পাশ কুঁজো হয়ে বেরিয়ে থাকে, তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। তবে যার কিছু কিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সামান্য বাঁকা, তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া যায়। কেবল মহাপুরুষই হচ্ছেন ব্রহ্মার মতো ঋজু দেহের অধিকারী। বাকিদের মধ্যে কুঁজো নয় এমন কেউ নেই। বেশিরভাগ ব্যক্তিই কাঁধে, কোমরে অথবা হাঁটুতে কুঁজো হয়ে থাকে। তারা কোমরে কুঁজো হলে পিছনে হেলে পড়ে, অন্য দুটো স্থানে কুঁজো হলে সামনে হেলে পড়ে। দীর্ঘদেহ যাদের, তারা একপাশে বাঁকা হয়ে থাকে। তাদের কেউ কেউ মুখ উপরে তুলে আকাশের চাঁদতারা গণনা করার মতো করে বিচরণ করে থাকে। কেউ কেউ অল্প মাংস ও রক্তের কারণে শুকনো কাঠির মতো হয়, কেউ কেউ সামনে ঝুঁকে থাকে।
বামন: বামন তিন ধরনের হয় – জঙ্ঘাবামন, কোমরবামন, উভয় বামন। যার কোমর থেকে শুরু করে দেহের নিচের অংশ খাটো হয়, দেহের উপরের অংশ কিন্তু পরিপূর্ণ হয়, তাকে বলা হয় জঙ্ঘাবামন। যার কোমর থেকে শুরু করে উপরের অংশ খাটো হয়, কিন্তু নিচের অংশ পরিপূর্ণ হয় তাকে বলা হয় কোমরবামন। যার দেহের উভয় অংশই খাটো, তাকে বলা হয় উভয় বামন। উভয় অংশই খাটো হওয়ার কারণে তার দেহ গোলাকার পেটমোটা কলসির মতো হয়। এই তিন ধরনের বামনদের কাউকেই প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়।
গলগণ্ডী: যার গলায় কলসির মতো বড়সড় ফোঁড়া থাকে তাকে বলা হয় গলগণ্ডী। প্রকৃতপক্ষে দেহের যেখানেই এমন ফোঁড়া থাক না কেন, তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়।
গোদ: গোদ রোগ থাকলে, পা ফুলে গিয়ে ফোঁড়া দেখা দিলে, ব্যথা হলে তখন প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। সেই ব্যথা না থাকলে, স্যাণ্ডেল পায়ে দিয়ে স্নানঘাটে গিয়ে বালির মধ্যে পা ডুবিয়ে রাখলে যদি পায়ে শিরাগুলো দেখা যায়, নলা তখন তেলনালির মতো হয়, সেভাবে করতে পারলে তখন প্রব্রজ্যা দেয়া যায়। আবার যদি পা ফুলে যায়, উপসম্পদা দেয়ার সময়েও স্নানঘাটে সেভাবেই করে তারপরে উপসম্পদা দেয়া উচিত।
দুরারোগ্য ব্যাধি: অর্শ বা পাইলস, ভগন্দর, পিত্ত, শ্লেষ্মা, কাশি, যক্ষা ইত্যাদি যেকোনো রোগে নিত্য রোগগ্রস্ত হয়ে থাকলে, দুরারোগ্য চিকিৎসায় আক্রান্ত হয়ে ঘৃণ্য ও বিশ্রী হলে তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়।
পরিষদ দূষক: যে নিজের বিরূপ চেহারার কারণে পরিষদকে দূষিত করে তাকে বলা হয় পরিষদ দূষক। যেমন কেউ কেউ অত্যন্ত লম্বা হয়। অন্যদের মাথা তার কেবল নাভি পর্যন্ত এসে ঠেকে। কেউ কেউ অত্যন্ত বেঁটে হয়, উভয় বামনের মতো। কেউ কেউ খুব কালো হয়, পোড়া মাঠে দগ্ধ হওয়া খুঁটির মতো। কেউ কেউ খুব সাদা হয়, দই ঘি ইত্যাদির রঙের। কেউ কেউ খুব কৃশ হয়, মাংসরক্ত তেমন থাকে না, সারা শরীরে কেবল হাড়, শিরা ও চামড়া দেখা যায়। কেউ কেউ খুব মোটা হয়, সেরকম মাংসল হয় তার দেহ। কেউ কেউ বিশাল ভুঁড়িওয়ালা হয়, মহাভুতের মতো।
কারো কারো বিরাট মাথা হয়, যেন মাথায় ঝুড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কারো কারো মাথা হয় শরীরের অনুপাতে খুব ছোট। কারো মাথা হয় তালফলের পিণ্ডের মতো কয়েকটা ঢিবিযুক্ত। কারো মাথা হয় চুড়ার মতো, যেন ক্রমান্বয়ে উপরের দিকে গিয়ে সরু হয়ে গেছে। কারো মাথা হয় বড় নল বা বাঁশের পর্বের মতো। কারো মাথার চারপাশের কোনো একটা দিক হয় পাহাড়ের খাড়া ঢালের মতো। ক্ষতওয়ালা মাথা, পঁচা মাথা অথবা ঘরের চালের মতো মাথা, অথবা মাথার এখানে ওখানে চুলের গুচ্ছ থাকে যেন কোনো শস্যক্ষেত্রের এখানে ওখানে গরুছাগল খেয়ে গেছে। অথবা চুলহীন মাথা, অথবা মাথায় খাটো খাটো কিন্তু শক্ত চুল থাকে। অথবা তালের ঢিবিগুলোর মতো চুলের গুচ্ছ থাকে। অথবা জন্মগতভাবেই সাদা চুল হয়, অথবা বাদামী বা লাল চুলের মাথা হয়। অথবা গরুর দেহের লোমের মতো চক্রাকারে উর্ধ্বমুখী চুলযুক্ত মাথা হয়। মাথার চুলের সাথে সংযুক্ত চোখের ভুরু থাকে, অথবা জালের মতো কপাল হয়।
দুই চোখের ভুরু যুক্ত থাকে, অথবা ভুরুহীন হয়। অথবা বানরের মতো ভুরু থাকে। অথবা বড় বড় চোখওয়ালা হয়। অথবা খুব ছোট চোখওয়ালা হয়। অথবা মোষের চামড়ায় বাটালি দিয়ে করা ছিদ্রের মতো চোখ হয়। অথবা চোখ একটা বড় একটা ছোট হয়। অথবা চোখের পজিশন একটা নিচে একটা উপরে হয়। অথবা কেকর বা ট্যারা চোখ হয় (কেকর শব্দটি পালি। অথচ চাকমাতেও বলে কেকর। কে বলবে এটা বাংলা থেকে এসেছে?)। কোটরাগত চোখ, যেন কুয়ার গভীরে দেখা পানির বুদবুদের মতো চোখ হয়। জ্বলজ্বলে চোখ, যেন কাঁকড়ার চোখের মতো বেরিয়ে থাকে। যাদের চোখের পাতায় লোম নেই। যাদের চোখ থেকে নিত্য অশ্রু ঝরে। যাদের চোখের তারাগুলো হয় প্রস্ফুটিত ফুলের মতো। তবে বাদামী চোখওয়ালাদেরকে প্রব্রজ্যা দেয়া যায়।
হাতির কানের মতো বড় কানওয়ালা। ইঁদুর বা বাদুরের মতো ছোট কানওয়ালা। অথবা যার কোনো কান নেই, কানের ছিদ্রটি আছে মাত্র। তবে যোনক জাতির মানুষের মতো যাদের কান আছে কিন্তু ছিদ্র নেই, তারা পরিষদকে দূষিত করে না। যাদের কানের ছিদ্র খুব সরু, নিত্য কানের মলে পরিপূর্ণ থাকে। যাদের কানে ফোঁড়া থাকে, সবসময় পুঁজ ঝরতে থাকে। অথবা যাদের গরুর কানের মতো কান থাকে।
অতি বিশাল নাকওয়ালা। অতি ছোট নাকওয়ালা। চ্যাপ্টা নাকওয়ালা (চ্যাপ্টা নাকওয়ালা কাউকে প্রব্রজ্যা দেয়া যাবে না)! একপাশে বাঁকা নাকওয়ালা। তোতাপাখির ঠোঁটের মতো লম্বা নাকওয়ালা, জিহ্বা দ্বারা যাদের নাক লেহন করা যায়। যাদের নাক থেকে নিত্য সিকনি ঝরে।
বড় মুখওয়ালা ব্যাঙের মতো বিশাল বড়সড় মুখ। ছোট লাউয়ের মতো মুখ। বিচ্ছিন্ন মুখ। বাঁকা মুখ। বড়সড় ঠোঁটওয়ালা, বড় পাত্রের মুখের মতো ঠোঁট। পাতলা ঠোঁট, দাঁত পর্যন্ত ঢাকতে পারে না এমন ঢোলের চামড়ার মতো টানটান ঠোঁট। অথবা নিচের ঠোঁট মোটা, উপরের ঠোঁট পাতলা এমন। অথবা নিচের ঠোঁট পাতলা, উপরের ঠোঁট মোটা এমন। অথবা ঠোঁট ছিন্ন। অথবা যাদের মুখ থেকে নিত্য লালা ঝরে। অথবা যাদের মুখ নিত্য লাল হয়ে থাকে। অথবা শঙ্খঠোঁটের মতো ঠোঁটগুলো বাইরে দেখতে সাদা, কিন্তু ভেতরে লাল। অথবা যার মুখ থেকে পঁচা দুর্গন্ধ বের হয়।
বড় বড় দাঁতওয়ালা। অসুরদাঁতের মতো উপরে বা নিচে দাঁত বেরিয়ে থাকে এমন। তবে যার দাঁতগুলো কেবল কথা বললে বেরিয়ে পড়ে, কথা না বললে ঠোঁট দিয়ে ঢাকা যায় তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া যায়। এছাড়াও ছোট দাঁতওয়ালা হলে, অথবা দাঁতহীন হলে, অথবা যার দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে কাঠবেড়ালির দাঁতের মতো ছোট ছোট দাঁত থাকে, তাদেরকে প্রব্রজ্যা দেয়া যায়।
গরুর চোয়ালের মতো বিরাট চোয়াল থাকলে। লম্বা চোয়াল বা চ্যাপ্টা চোয়াল হলে। অথবা খুব ছোট চোয়াল ভেতরে ঢুকে গেলে। চোয়াল দ্বিধাবিভক্ত হলে। বাঁকা চোয়াল হলে। ভিক্ষুণীদের মুখের মতো দাঁড়িগোঁফবিহীন হলে।
বকের গলার মতো লম্বা গলা হলে। খাটো গলা, যেন কাঁধের মধ্যে ঢুকে গেছে এমন গলা হলে। গলা বিভক্ত হলে। মেয়েদের মতো কাঁধহীন বা সমতল কাঁধ হলে। হাতহীন, একহাত বা খুব ছোট হাত বা খুব দীর্ঘ হাত হলে। বিভক্ত বুক হলে। বিভক্ত পিঠ হলে। খোসপাঁচড়াপূর্ণ দেহ হলে। দাদযুক্ত দেহ হলে। গুইসাপের মতো চুর্ণ ছিটানো দেহ হলে।
ভগ্ন কোমর হলে। চুলার চুড়ার মতো উঁচু মাংসের চুড়া হলে। শরীরের তুলনায় বিশাল উরু হলে। বড় অন্ডকোষ হলে। হাঁটু বড় হলে। হাঁটুগুলো পরস্পর ঘষা খেলে। পায়ের নলা দীর্ঘ হলে। কাঠির মতো পায়ের নলা হলে। বিকৃত হলে, অর্থাৎ যার চলার সময়ে হাঁটুগুলো বাইরে বেরিয়ে থাকে। গোড়ালি বাইরে বেরিয়ে থাকলে, অর্থাৎ যার চলার সময় হাঁটুগুলো ভেতরে ঢুকে থাকে। পায়ের নলার উপরে বা নিচের অংশে বিশাল নলার মাংসপিণ্ড থাকলে। শরীরের তুলনায় বিশাল নলা হলে। খাটো নলার মাংসপিণ্ড হলে। শরীরের তুলনায় বিশাল পা হলে। শরীরের তুলনায় বিশাল গোড়ালি হলে। পায়ের মাঝখান থেকে নলা উঠলে। বাঁকা পা হলে, অর্থাৎ ভেতরে বা বাইরের দিকে বাঁকা এমন।
গিঁটযুক্ত আঙুল হলে, অর্থাৎ আদা গুচ্ছের মতো আঙুল হলে। কালো রঙা বিশ্রী নখের আঙুল হলে। এরা সবই পরিষদ দূষক হয়। এদেরকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়।
কানা: রাতকানা (পসন্নন্ধো) অথবা বর্ণান্ধ। যে দুটো বা একটা চোখে দেখে না তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। মহাপচ্চরি অর্থকথায় অবশ্য একচোখ কানাকে কানা বলা হয়েছে। দুই চোখ কানাকে অন্ধ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। তবে মহাঅর্থকথায় অন্ধ বলতে জন্মান্ধকে বুঝানো হয়েছে।
কুনি: কুনি হচ্ছে বাঁকা অঙ্গপ্রত্যঙ্গসম্পন্ন। যার হাত বাঁকা, অথবা পা বাঁকা, অথবা আঙুল বাঁকা, সে হচ্ছে কুনি। এদেরকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়।
খঞ্জ: হাঁটু অবনত অবস্থায় থাকে এমন। অথবা পায়ের নলা দ্বিধাবিভক্ত। অথবা মধ্যে সংকুচিত পায়ের কারণে বাঁকা পা। অথবা পায়ের অগ্রভাগ সংকুচিত হওয়ায় চলতে গিয়ে পদতলের পিঠের মাঝখানে ভর দিয়ে চলতে হয়। অথবা পদতলের পিঠের অগ্রভাগে ভর দিয়ে চলে এমন। অথবা পায়ের মুড়িতে ভর দিয়ে চলে এমন। অথবা পা বাইরের দিকে রেখে চলে এমন। অথবা পা ভেতরের দিকে রেখে চলে এমন। অথবা পায়ের গোড়ালি ভগ্ন হওয়ায় পুরো পদতলের পিঠের উপর ভর দিয়ে চলে এমন। এরা সবাই হচ্ছে খঞ্জ। এদেরকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়।
পক্ষাহত: যার একটা হাত বা একটা পা অথবা দেহের একটা পাশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত।
পঙ্গু: পঙ্গু লোক।
জরাদুর্বল: বেশি বুড়ো হওয়ার কারণে নিজের চীবর রং করা ইত্যাদি করতে অসমর্থ। তবে যে বুড়ো হয়েও বলবান থাকে, নিজের রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারে, তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া যায়।
অন্ধ: অন্ধ বলতে জন্মান্ধকে বুঝায়।
হাবাগোবা: যার কথাবার্তা ভালোমতো চলে না বা তোতলায়। যে কথা বলতে পারে, কিন্তু ত্রিশরণ পরিপূর্ণভাবে বলতে পারে না, সেরকম তোতলাকেও প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। কিন্তু যে ত্রিশরণ পরিপূর্ণভাবে বলতে পারে, তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া যায়।
বধির: যে কোনোকিছুই শোনে না। তবে যে বড় বড় শব্দ করলে শোনে, তাকে প্রব্রজ্যা দেয়া যায়।
উপরোক্ত ব্যক্তিদেরকে প্রব্রজ্যা দেয়া উচিত নয়। উপসম্পদাও দেয়া উচিত নয়। তবে তাদেরকে যদি সঙ্ঘ উপসম্পদা দেয়, তাহলে তারা ঠিকই উপসম্পন্ন ভিক্ষু হয়। কিন্তু তাদেরকে প্রব্রজ্যা ও উপসম্পদা দানকারী ভিক্ষুসঙ্ঘ এবং আচার্য ও উপাধ্যায়গণের দুক্কট আপত্তি হয়ে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *