আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

সঙ্ঘভেদ ও তার ফলের পিটকীয় রেফারেন্স

সঙ্ঘভেদ হচ্ছে মূলত মতপার্থক্যের কারণে একটা সঙ্ঘ ভাগ হয়ে দুটো আলাদা সঙ্ঘ হয়ে একই সীমার মধ্যে আলাদাভাবে পাতিমোক্ষ আবৃত্তি ও অন্যান্য বিনয়কর্মগুলো সম্পাদন করা। সঙ্ঘভেদ ধর্মতও হয়, অধর্মতও হয়। ধর্মত হলে তাতে কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু অধর্মত করা হলে এটি খুব গুরুতর অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়। যার ফলে সঙ্ঘভেদকারী ও তার অনুসারীরা নরকে নিক্ষিপ্ত হয়। এক্ষেত্রে সঙ্ঘভেদকারী ও তার অনুসারীরা-
১. অধর্মকে ধর্ম বলে প্রচার করে
২. ধর্মকে অধর্ম বলে প্রচার করে
৩. অবিনয়কে বিনয় বলে প্রচার করে
৪. বিনয়কে অবিনয় বলে প্রচার করে
৫. বুদ্ধের অভাষিত অকথিত বিষয়গুলোকে বুদ্ধভাষিত বুদ্ধকথিত বলে প্রচার করে
৬. বুদ্ধভাষিত বুদ্ধকথিত বিষয়গুলোকে বুদ্ধের অভাষিত অকথিত বলে প্রচার করে
৭. বুদ্ধের অনাচরিত বিষয়গুলোকে বুদ্ধের আচরিত বলে প্রচার করে
৮. বুদ্ধের আচরিত বিষয়গুলোকে বুদ্ধের অনাচরিত বলে প্রচার করে
৯. বুদ্ধের অপ্রজ্ঞাপ্ত বিষয়গুলোকে বুদ্ধের প্রজ্ঞাপ্ত বলে প্রচার করে
১০. বুদ্ধের প্রজ্ঞাপ্ত বিষয়গুলোকে বুদ্ধের অপ্রজ্ঞাপ্ত বলে প্রচার করে
১১. যা অপরাধ নয় সেটাকে অপরাধ বলে প্রচার করে
১২. যা অপরাধ সেটাকে অপরাধ নয় বলে প্রচার করে
১৩. গুরু অপরাধকে লঘু অপরাধ বলে প্রচার করে
১৪. লঘু অপরাধকে গুরু অপরাধ বলে প্রচার করে
১৫. সীমিত অপরাধকে সীমাহীন অপরাধ বলে প্রচার করে
১৬. সীমাহীন অপরাধকে সীমিত অপরাধ বলে প্রচার করে
১৭. জঘন্য অপরাধকে জঘন্য অপরাধ নয় বলে প্রচার করে
১৮. জঘন্য নয় এমন অপরাধকে জঘন্য অপরাধ বলে প্রচার করে।
এই আঠারটির মধ্যে যেকোনো এক বা একাধিক বিষয়কে ভিত্তি করে কোনো ভিক্ষু ঘোষণা করতে পারে, ‘এটিই ধর্ম, এটিই বিনয়, এটিই বুদ্ধের নির্দেশ। এটি গ্রহণ করুন, এটি সমর্থন করুন’। তখন তার পক্ষে চারজন বা তার বেশি ভিক্ষু সমর্থন করে। আবার তার বিপক্ষে চারজন বা তার বেশি ভিক্ষু সমর্থন করে। এভাবে সেই ঘোষণাকারী ভিক্ষুর পক্ষে ও বিপক্ষে যদি দুটো আলাদা সঙ্ঘ হয়ে যায়, যদি সেই আলাদা সঙ্ঘগুলো একই সীমার মধ্যে আলাদাভাবে উপোসথ করে, আলাদাভাবে প্রবারণা করে, আলাদাভাবে সঙ্ঘকর্ম করে তখন সঙ্ঘভেদ হয়। (চুল্লবর্গ.৩৫১-৩৫২)
পরিবার অর্থকথায়ও বলা হয়েছে, চারজন অথবা তারো বেশি ভিক্ষু উপরোক্ত ১৮টি বিষয়ের যেকোনোটির ভিত্তিতে আলাদাভাবে সঙ্ঘকর্ম অথবা পাতিমোক্ষ আবৃত্তি করলে তখন সঙ্ঘ বিভক্ত হয়। (পরি.অ.৪৫৮)
ভিক্ষুণী, শ্রমণ, শ্রামণী, উপাসক, উপাসিকারাও সঙ্ঘভেদের চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু তারা সঙ্ঘভেদ করতে পারে না। স্বাভাবিক ভিক্ষুই সঙ্ঘভেদ করতে পারে। যেমন বলা হয়েছে, “ভিক্খু খো, উপালি, পকতত্তো, সমানসংৰাসকো, সমানসীমাযং ঠিতো, সঙ্ঘং ভিন্দতী।” এর অর্থ হচ্ছে, হে উপালি, প্রকৃতিস্থ , সমান সংবাসক, সমান সীমায় অবস্থানকারী ভিক্ষুই সঙ্ঘকে বিভক্ত করে। অর্থাৎ সঙ্ঘভেদকারীকে স্বাভাবিক ভিক্ষু হতে হয়, আগে থেকেই সঙ্ঘের মধ্যে একসাথে বসবাসকারী (সমান সংবাসক) হতে হয়, কিন্তু পরবর্তীতে পাতিমোক্ষ আবৃত্তি, প্রবারণা ও সঙ্ঘকর্মগুলো একই সীমায় আলাদাভাবে করতে হয়। (চুল্লবর্গ.৩৫১)
সঙ্ঘভেদের ফল
আমরা অনেকেই জানি, দেবদত্ত সঙ্ঘভেদ করে অবীচি নরকে শাস্তি ভোগ করছে। আমরা এও জানি যে সঙ্ঘভেদ করলে তার কল্পকাল নরকযন্ত্রণা অনিবার্য, তাই না? উপালি ভান্তেও সেব্যাপারে বুদ্ধকে জিজ্ঞেস করেছিলেন। তখন বুদ্ধ বলেছিলেন, সঙ্ঘভেদ করে নরকগামী হয় এমন ব্যক্তি যেমন আছে, তেমনি সঙ্ঘভেদ করে নরকগামী হয় না এমন ব্যক্তিও আছে।
কোন সঙ্ঘভেদকারী নরকগামী হয়? অধর্মত সঙ্ঘভেদকারী নরকগামী হয়। যেমন- এখানে কোনো কোনো ভিক্ষু অধর্মকে ধর্ম বলে প্রচার করে, ধর্মকে অধর্ম বলে প্রচার করে। কিন্তু সে সেগুলোকে অধর্ম হিসেবে জানে, অথবা অধর্ম বলে সন্দেহ করে। কিন্তু অধর্ম বলে জেনে বা সন্দেহ করেও সে সেগুলোর ভিত্তিতে অন্যদেরকে বলে, ‘এটিই ধর্ম, এটিই বিনয়, এটিই বুদ্ধের নির্দেশ। এটি গ্রহণ করুন, এটি সমর্থন করুন’। এমন সঙ্ঘভেদকারীই নরকগামী হয়।
কোন সঙ্ঘভেদকারী নরকগামী হয় না? ধর্মত সঙ্ঘভেদকারী নরকগামী হয় না। যেমন- এখানে কোনো কোনো ভিক্ষু অধর্মকে ধর্ম বলে প্রচার করে, ধর্মকে অধর্ম বলে প্রচার করে। কিন্তু সে সেগুলোকে ধর্ম হিসেবেই জানে, অথবা ধর্ম বলে সন্দেহ করে। ধর্ম বলে জেনে বা সন্দেহ করে তাই সে সেগুলোর ভিত্তিতে অন্যদেরকে বলে, ‘এটিই ধর্ম, এটিই বিনয়, এটিই বুদ্ধের নির্দেশ। এটি গ্রহণ করুন, এটি সমর্থন করুন’। এমন সঙ্ঘভেদকারী নরকগামী হয় না। (চুল্লবর্গ.৩৫৫)
অতএব অধর্মত সঙ্ঘভেদকারী ও তার অনুসারীদের নরকেই গতি হয়। ধর্মত সঙ্ঘভেদকারী ও তার অনুসারীদের কিন্তু তাতে কোনো দোষ হয় না। (সারত্থদীপনী টীকা.৩.৩৫৫)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *