আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

দায়ক-দায়িকা ও উপাসক-উপাসিকার মধ্যে পার্থক্য কী?

সোজা কথায়, যারা ভিক্ষুকে বা সঙ্ঘকে চারিপ্রত্যয় বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস দেয় তাকে বলা হয় দায়ক বা দায়িকা। আর যে ত্রিরত্নের উপাসনা করে সে হয় উপাসক বা উপাসিকা। বৌদ্ধপ্রধান দেশগুলোতে সাধারণত দায়ক দায়িকা ও উপাসক উপাসিকার মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না। কারণ সেখানে যারা দায়ক দায়িকা হয় তারাই উপাসক উপাসিকা হয়। কাজেই সেখানে দুটোই একই জিনিস। […]

উপযুক্ত উপাসক/উপাসিকা কীভাবে হওয়া যায় (১ম পর্ব)

উপাসক কে? যে কোনো ত্রিশরণ গ্রহণকারী গৃহী হচ্ছে উপাসক। কারণ বুদ্ধ মহানাম শাক্যকে বলেছিলেন, হে মহানাম, যখন থেকে সে বুদ্ধের আশ্রয় গ্রহণ করে, ধর্মের আশ্রয় গ্রহণ করে, সঙ্ঘের আশ্রয় গ্রহণ করে, তখন থেকে সে উপাসক হয় (সংযুক্ত নিকায়.৫.১০৩৩)। কেন তাকে উপাসক বলা হয়? ত্রিরত্নের উপাসনা করে বলেই তাকে উপাসক বলা হয়। এভাবে ত্রিরত্নের উপাসক হলেও […]

ধর্মস্কন্ধ নিয়ে আলোচনা

পারাজিকা অর্থকথামতে, ধর্মস্কন্ধ হচ্ছে চুরাশি হাজার। এর মধ্যে বিরাশি হাজার হচ্ছে বুদ্ধের বাণী। দুই হাজার হচ্ছে ধর্মসেনাপতি সারিপুত্র ভান্তে ও অন্যান্য বিশিষ্ট ভান্তেদের বাণী। সেগুলোও বুদ্ধবাণী হিসেবেই গণ্য হয়। এভাবে সমগ্র বুদ্ধবচন হচ্ছে ৮৪০০০ ধর্মস্কন্ধ। তবে কোন পিটকে কতগুলো ধর্মস্কন্ধ আছে সেটা নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। তাই সেব্যাপারে একটু লিখতে বসলাম। সুত্রের ধর্মস্কন্ধগুলোর কথা সুত্র, […]

সাধুবাদ কখন দিতে হয়?

একজন আজকে কমেন্টস করে জানতে চাইল কখন সাধুবাদ দিতে হয়। আমি ভাবলাম কমেন্টসের জবাব বরং পোস্টে লিখলেই ভালো হবে। তাই সেব্যাপারে একটু লিখতে বসলাম। সাধুবাদ মানে হচ্ছে ভালো কথা বা কাজকে অনুমোদন করা, সমর্থন করা। এটা দশ প্রকার কুশল কর্মের অন্যতম। অন্যের যেকোনো কথায় বা কাজে যদি আপনি সাধুবাদযোগ্য বলে মনে করেন তাহলে সাধুবাদ দিতে […]

স্বাধীন চিন্তা ও বৌদ্ধধর্ম

বারুক স্পিনোজা (Baruch Spinoza) ছিলেন সপ্তদশ শতাব্দীর ডাচ দার্শনিক। তার একটা উক্তি আমাকে খুব ভাবিয়ে তুলেছে। ধরা যাক আকাশে একটা ঢিল ছুঁড়ে মারা হয়েছে। এখন ঢিলটির যদি সেই মুহুর্তে চিন্তা করার মতো ক্ষমতা থাকতো তাহলে সে নিশ্চয়ই ভাবত, আরে ! আমি তো সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ছুটে চলেছি! অথচ তার গতিপথ যে আগে থেকেই নির্ধারিত হয়ে আছে […]

দুই তার্কিকের তর্ক

শুধু তর্ক দিয়ে যে বাস্তবে কাজ হয় না তা এই কথোপকথন থেকে বুঝা যায়- ১ম তার্কিক একটা খালি কোকাকোলার বোতলকে দেখিয়ে বলল, এটা কী? গ্লাস, নাকি বোতল? ২য় তার্কিক: এটা গ্লাস এবং বোতল, উভয়ই। ১ম তার্কিক: আচ্ছা! তাহলে গ্লাস ও বোতল হচ্ছে একই। তাহলে গ্লাস বললে বোতল বুঝায়, বোতল বললে গ্লাসকে বুঝায়। তাই নয় কি? […]

মানুষের অধঃপতন হয় কীসে?

একজনের অনুরোধে আজ পরাভব সুত্র অর্থকথাসহ লিখতে বসলাম। পরাভব মানে হচ্ছে পরিহানি, অধঃপতন বা ধ্বংস। মানুষের জীবনে কী কী কারণে অধঃপতন বা ধ্বংস নেমে আসে সেব্যাপারে এক দেবপুত্র এক রাতে এসে ভগবান বুদ্ধকে জিজ্ঞেস করেছিল। বুদ্ধ তখন শ্রাবস্তীর জেতবনে অবস্থান করছিলেন। এর আগের রাতে তিনি দেবতাদেরকে মঙ্গলসুত্র দেশনা করেছিলেন। সেই মঙ্গলের কথাগুলো শুনে দেবতাদের নাকি […]

সমকামিতা, বিজ্ঞান ও বৌদ্ধধর্ম

আজ সকালে একজন একটা ভিডিওর লিংক পাঠালো। ভিডিওটাতে একজন মোল্লা কর্তৃক এক ছেলের যৌন হয়রানির কথা উঠে এসেছে। সোজা বাংলায় যাকে বলে সমকামিতা। আমি ইন্টারনেটে একটু খোঁজ নিলাম এব্যাপারে। উইকিপিডিয়া বলছে, সমলিঙ্গের ব্যক্তির প্রতি রোমান্টিক আকর্ষণ অথবা সমলিঙ্গের ব্যক্তির সাথে যৌনাচারকে বলা হয় সমকামিতা। বিজ্ঞানীরা নাকি এমন অস্বাভাবিক যৌনআকর্ষণের কারণ সম্পর্কে এখনো ঠিক জানেন না। […]

বৌদ্ধধর্মে দশপ্রকার পুণ্যকর্ম

বৌদ্ধধর্মমতে, নির্বাণ লাভ না করা পর্যন্ত সবারই পুণ্যকর্ম করা দরকার। ধর্মপদে বুদ্ধ বলেছেন, কেউ যদি পুণ্যকর্ম করে তাহলে সেটা যেন সে বারবার করে, তা যেন সে সবসময় আকাঙ্খা করে, কারণ পুণ্যসঞ্চয় হচ্ছে সুখদায়ক (ধম্মপদ-১১৮)। কিন্তু কোন কোন কাজগুলো পুণ্যকর্ম হিসেবে গণ্য হয়? অভিধর্মপিটকের ধর্মসঙ্গণি অর্থকথামতে সেগুলো হচ্ছে দশ প্রকার কাজ, যেমন- দানজনিত পুণ্যকর্ম, শীলজনিত পুণ্যকর্ম, […]

বৌদ্ধধর্মে পাপ-পুণ্য এলো কোত্থেকে?

ধর্মপদের দুটো গাথা আমার খুব প্রিয়। এখন তো মায়ানমারে এসে আমার কোনো ধর্মদেশনা দিতে হয় না। কিন্তু বাংলাদেশে থাকতে যেখানেই যেতাম আমাকে মাইক্রোফোন হাতে নিতে হতো। ধর্মদেশনা দিতে দিতে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। আমি নিজেই বুঝি না, অন্যকে বুঝাবো কী? প্রায় সময়ই এরকম হয়, অতর্কিতে একটা অনুষ্ঠানে যেতে হলো। ধর্মদেশনার পালা পড়লো আমার ভাগে। কিছুই […]