আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

মহামিয়াইন সেয়াদ ধ্যানমগ্ন হলেও লোকেরা ভেবেছে অজ্ঞান !!

আমাকে গতকাল একজন মেসেজ দিল। খুব নাকি অসুখ। সপ্তাহে দুবার ডায়ালাইসিস করতে হয়। অর্থাৎ খুব গুরুতর অসুখ। সুস্থ হতে পারেন, আবার নাও হতে পারেন। কখন কী হয় ঠিক নেই। এই অবস্থায় কী করা উচিত একজন রোগীর?

আমি এর উত্তরে বরং আপনাদেরকে মহামিয়াইন সেয়াদের কাহিনী বলতে পারি। মহামিয়াইন সেয়াদের নাম হচ্ছে উ জোতিক সেয়াদ। তার বইগুলো মায়ানমারে ও বিদেশে খুবই জনপ্রিয়। এর মধ্যে একটি বিখ্যাত বই হচ্ছে map of journey। সেখানে তিনি তার মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার কাহিনীটা বলেছিলেন।

মহামিয়াইন সেয়াদ নাকি বেশ কয়েকবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিলেন। একবার তিনি কয়েক মাস ধরে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তখন তিনি জঙ্গলে থাকতেন। ওষুধপত্র বলতে কিছুই ছিল না। কিছুই খেতে পারতেন না। ফলে শরীর খুবই দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। বলতে গেলে মৃত্যুর কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। পরিচিতজনেরা তার আশেপাশে ভিড় করেছিল। তারা বলাবলি করছিল, ‘সে তো অজ্ঞান হয়ে গেছে, কোমাতে চলে গেছে।’ তিনি তাদের কথাবার্তাগুলো শুনতে পাচ্ছিলেন, কিন্তু নড়াচড়া করতে পারছিলেন না একবিন্দুও। তাই অন্যরা মনে করছিল তিনি অজ্ঞান হয়ে গেছেন!

সেই মুমুর্ষু অবস্থায় জীবন মরণের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে তিনি তার জীবনে কী করেছেন সেটা একটু ভেবে দেখলেন। দেখলেন যে তিনি আসলে জীবনে সন্তোষজনক তেমন কিছু করতে পারেন নি। তার একটা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ছিল, তিনি একটা চাকরি করতেন, বিয়ে করেছিলেন, আরো অনেক কিছু করেছিলেন। বহু দিক দিয়ে তিনি হয়তো সফলই ছিলেন, কিন্তু সেগুলো তখন মনে হলো অর্থহীন। একমাত্র যে জিনিসটা তখন অর্থবহ বলে মনে হয়েছিল সেটা ছিল তিনি ধ্যান করতে শিখেছিলেন। সেটাই সেই মুহুর্তে সবচেয়ে অর্থবহ বলে মনে হয়েছিল। তাই তিনি তার মনকে ধ্যানে নিয়োজিত করলেন। তিনি ভাবলেন, যদি মারা যান তো ভালো, কিন্তু তিনি মারা যেতে চান সচেতনভাবে, ধ্যানমগ্ন হয়ে। সেই চিন্তাটাই তাকে স্বস্তি যোগালো, মনে শান্তি যোগালো। অন্য কোনো কিছুই আর সেখানে ঠাঁই পেল না।

অতএব যদি পারেন, ধ্যানচর্চা করুন প্রতিদিন। অন্তত প্রতিদিন পাঁচমিনিট করলেও হবে। বিপদ আপদের কোনো মা-বাপ নেই। কখন হুট করে এসে পড়ে ঠিক নেই। তখন দেখবেন এই ধ্যানচর্চাটাই আপনার সহায় হবে, মহামিয়াইন সেয়াদের মতো।

আরেকটা কথা। লোকজন ভেবেছিল মহামিয়াইন সেয়াদ অজ্ঞান হয়ে মারা যাচ্ছেন, অথচ তিনি ধ্যানেই মনোযোগ দিয়েছিলেন। ভাগ্য ভালো মহামিয়াইন সেয়াদ তখন মরেন নি। তাই বেঁচে থেকে তার বইগুলোতে সেই অভিজ্ঞতাগুলো বর্ণনা করেছেন। সেই বইগুলোর মাধ্যমে আমরা জানতে পারছি যে লোকেরা তাকে অজ্ঞান হয়েছে মনে করলেও তিনি কিন্তু সচেতনই ছিলেন। অথচ মরলে নিশ্চয়ই আমাদের দেশের নিন্দুকেরা বলত, মহামিয়াইন সেয়াদও অজ্ঞান হয়ে মারা গেছেন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *