আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

ধর্ম হচ্ছে অকালিক, কিন্তু …

ধর্মের ছয়টি গুণের মধ্যে একটি হচ্ছে অকালিক। অর্থাৎ ধর্ম হচ্ছে কাল-অকালবিহীন। কিন্তু এপর্যন্ত এর ব্যাখ্যা যে কতজনকে কতভাবে দিতে দেখলাম। আজকে একটু পিটকে খুঁজে দেখলাম কী লেখা আছে। প্রথমেই আমরা বিশুদ্ধিমার্গের ৭নং অধ্যায়ের ধর্মানুস্মৃতিতে দেখি। সেখানে বলা হয়েছে, ধর্মের ছয়টি গুণের মধ্যে যে অকালিক গুণটি বলা হয়, সেটি লোকোত্তর মার্গকে উদ্দেশ্য করেই বলা হয়েছে। কালিক […]

বুদ্ধশাসনের ইতিহাস – ৪র্থ পর্ব – অভয়গিরি বিহারের উত্থান পতন

বট্টগামণি শ্রীলঙ্কার রাজা হওয়ার পরে কৃতজ্ঞতা স্বরূপ মহাতিষ্য স্থবিরকে অভয়গিরি বিহার নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। তখন থেকে মহাবিহার ও অভয়গিরি বিহার দুটো আলাদা নিকায় হিসেবে অবস্থান করতে থাকে। অভয়গিরি বিহার ক্রমে ক্রমে মহাযান ও বজ্রযান শিক্ষার মূল কেন্দ্র হয়ে ওঠে। মহাবিহারের ভিক্ষুরা রক্ষণশীল মনোভাবের হওয়ায় তারা অভয়গিরিবাসীদেরকে অধর্মবাদী বলত। কিন্তু তবুও অভয়গিরি বিহারের প্রচার ও প্রসার […]

বুদ্ধশাসনের ইতিহাস – ৩য় পর্ব – অধর্মবাদীদের উৎপত্তি

অশোক রাজার সময়ে বৌদ্ধ ভিক্ষুর বেশধারী ৬০,০০০ ব্রাহ্মণ ও তির্থীয় সন্ন্যাসীকে ধরে ধরে গৃহী বানিয়ে দেয়া হয়েছিল। তারা তখন পাটলিপুত্র থেকে বের হয়ে রাজগৃহের নালন্দায় গিয়ে মিলিত হলো। সেখানে তারা ষড়যন্ত্র করল, ‘লোকজন যাতে বুদ্ধশাসনে যেতে না পারে, তার জন্য শাক্যদের ধর্মবিনয়কে নাশ করতে হবে। কিন্তু তাদের মতবাদ না জানলে তো তা সম্ভব নয়। কাজেই […]

বুদ্ধশাসনের ইতিহাস – ২য় পর্ব – শ্রীলঙ্কায় বৌদ্ধধর্ম

মহিন্দ স্থবির শ্রীলঙ্কায় আসেন দেবানং প্রিয়তিষ্য রাজার আমলে, খ্রিষ্টপূর্ব ২৫৫ অব্দে। এরপরে সেখানে অনুরাধাপুর মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন। থেরবাদীদের মূল কেন্দ্র ছিল এই মহাবিহার। তখন থেকে শ্রীলঙ্কায় থেরবাদী বুদ্ধশাসন কোনো বিরুদ্ধ নিকায়ের মতবাদ শূন্য হয়ে, নির্মল ও সুপরিশুদ্ধ হয়ে জ্বলজ্বল করছিল বট্টগামণি রাজার আগ পর্যন্ত। বট্টগামণি রাজা খ্রিষ্টপূর্ব ১০৩ সালে রাজা হন। কিন্তু এর পাঁচ মাস […]

বুদ্ধশাসনের ইতিহাস-১ম পর্ব – ভারতে বৌদ্ধধর্ম

অনেকেই বলে, বৌদ্ধধর্মে এত ভাগ ভাগ কেন? সামান্য পার্বত্য চট্টগ্রামেই বৌদ্ধদের মধ্যে কত ভাগ। বনবাদী, পার্বত্যবাদী, গুরুবাদী, ধুতাঙ্গবাদী কত বাদী যে হয়ে গেল। বৌদ্ধধর্ম নাকি শান্তির ধর্ম। যে ধর্মে এত ভাগ, সেটা শান্তির ধর্ম হয় কী করে? আমার মনে হয় এর জন্য আমাদের বুদ্ধশাসনের ইতিহাস জানা দরকার। এজন্য দীর্ঘ কয়েকটি পর্বে সংক্ষিপ্ত আকারে লিখলাম। লোকজন […]

মহামিয়াইন সেয়াদ ধ্যানমগ্ন হলেও লোকেরা ভেবেছে অজ্ঞান !!

আমাকে গতকাল একজন মেসেজ দিল। খুব নাকি অসুখ। সপ্তাহে দুবার ডায়ালাইসিস করতে হয়। অর্থাৎ খুব গুরুতর অসুখ। সুস্থ হতে পারেন, আবার নাও হতে পারেন। কখন কী হয় ঠিক নেই। এই অবস্থায় কী করা উচিত একজন রোগীর? আমি এর উত্তরে বরং আপনাদেরকে মহামিয়াইন সেয়াদের কাহিনী বলতে পারি। মহামিয়াইন সেয়াদের নাম হচ্ছে উ জোতিক সেয়াদ। তার বইগুলো […]

অর্হতেরা কি রাগ করেন?

অর্হতের কথাগুলোও যে শুনতে গালাগালির মতো লাগতে পারে, কর্কশ লাগতে পারে, সেটা আমি কিছুদিন আগে লিখেছিলাম (তার লিংকটা পোস্টের শেষে দেয়া আছে)। সেটা ছিল অর্হতের ভাষা নিয়ে। তাদের অন্যান্য কর্মকাণ্ড দেখেও কিন্তু অনেকেই তাদের রাগ বা ক্রোধ আছে বলে মনে করে, সেব্যাপারে আজ লিখব। বেশি দূরে খুঁজতে হবে না। আমরা দীর্ঘ নিকায়ের অম্বট্ঠ সুত্রটা দেখতে […]

অর্হৎরা কি সবকিছু জানতে পারে?

আমাদের অনেকেরই ধারণা যে, অর্হৎগণ সবকিছু জানেন। সুত্রপিটকের সংযুক্ত নিকায়ে এব্যাপারে বলা হয়েছে, “ভিক্ষুগণ, সবকিছু বিশেষভাবে জেনে, পরিপূর্ণভাবে জেনে তবেই দুঃখক্ষয় সম্ভব (স.নি.৪.২৬)”। এই কথার ভিত্তিতে অনেকেই মনে করতে পারে, অর্হৎগণ সবকিছু পরিপূর্ণভাবে জেনে তবেই অর্হৎ হন। কিন্তু সবকিছু পরিপূর্ণভাবে জানাটা কী জিনিস? সেটা বুঝাতে গিয়ে সেই সুত্রে বুদ্ধ বলেছেন, “হে ভিক্ষুগণ, চোখ, রূপ, চোখবিজ্ঞান, […]

ভিক্ষুরা কি নিজেদের অর্হত্ব প্রকাশ করতে পারে?

আগের একটা পোস্টে লিখেছিলাম, দায়কেরা কোনো ভিক্ষুকে অর্হৎ বললে তাতে ভিক্ষুর কোনো অপরাধ হয় কিনা । সে তো গেল দায়করা বললে। কিন্তু কোনো ভিক্ষু যদি নিজেই নিজেকে অর্হৎ বলে দাবি করে তার কী হবে? বিনয়পিটকের ৩ নং পারাজিকামতে, অর্হত্ব বা মার্গফল, বা ধ্যান বা ঋদ্ধির মিথ্যা দাবি করলে সেই ভিক্ষুর পারাজিকা হয়। আবার ৮নং পাচিত্তিয়মতে, […]

আমার মতে, হাতিও কামড়ায় !!!

আমাদের সাথে সম্প্রতি এসে যোগ দিয়েছে এক কম্বোডিয়ান শ্রমণ। দেখতে চাকমাদের মতোই। তবে আমার থেকেও লম্বা। একটু একটু ইংরেজি বলতে পারে, একটু একটু বার্মিজ বলতে পারে। আমি আজ তাকে বার্মিজ ভাষায় জিজ্ঞেস করলাম, সা পিবি লা? খাওয়া শেষ নাকি? সে বলল, পিবি। হ্যাঁ, খাওয়া শেষ। আমি বললাম, সা কাঁউ লা? খাওয়াটা ভালো হয়েছে তো? সে […]