আমার ফেসবুকের লেখাগুলো – My facebook Writings

দুই মিলিয়ন ডলারের শিক্ষা বই আকারে বেরোচ্ছে!

একটা সুখবর দিই। আশ্চর্য হলেও সত্যি, আমার ফেসবুকের লেখাগুলোর সংকলন নিয়ে একটা বই বের হচ্ছে। শ্রদ্ধেয় করুণাবংশ ভান্তে http://gansanta.org/fbposts/ ওয়েবসাইটে আমার ফেসবুকের লেখাগুলো পড়েছিলেন। পড়ে নাকি তার মনে হয়েছে এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ লেখা। তাই তার উদ্যোগে এই লেখাগুলো ত্রিপিটক পাবলিশিং সোসাইটি থেকে একদম বই আকারে ছাপানো হচ্ছে। লেখাগুলো তিনি নিজেই বাছাই করেছেন। তিনি বইটার নাম […]

ব্রহ্মজাল সুত্রের সারসংক্ষেপ

পৃথিবীর বেশির ভাগ লোকজন আত্মা ও সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করে। বর্তমানে তিনটি প্রধান ধর্ম হচ্ছে খ্রিস্টান (২৪০ কোটি), ইসলাম (১৮০ কোটি) ও হিন্দু ধর্ম (১১৫ কোটি)। সবগুলোই আত্মা এবং সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী। তাহলে চিন্তা করুন তো, পৃথিবীর ৭২০ কোটি মানুষের মধ্যে ৫৩৫কোটি মানুষ বিশ্বাস করে আত্মা আছে এবং একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন। এমনকি একবার কয়েকজন মধ্যবয়স্কা উপাসিকার কাছ […]

বুদ্ধের আমলের ছয়জন গুরুর কথা

আপনারা হয়তো জানেন, পৃথিবীতে বুদ্ধ জন্মানোর এক হাজার বছর আগে থেকেই ব্রহ্মলোকের দেবতারা মানুষের বেশে পৃথিবীতে বিচরণ করে করে জগতজুড়ে রটিয়ে দেয়, একজন বুদ্ধ আসবেন, একজন বুদ্ধ আসবেন। তা শুনে মানুষেরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বলাবলি করতে থাকে, একজন বুদ্ধ আসবেন। কে সে? কে সে? এটাকে বলা হয় বুদ্ধকোলাহল। (খুদ্দকপাঠ অর্থকথা / মঙ্গলসুত্তৰণ্ণনা) এই কানাঘুষার […]

অকর্মবাদী, নিয়তিবাদী, বস্তুবাদী ও আংশিক বস্তুবাদী

অক্রিয়াবাদী আমাদের মধ্যে অনেকেই মনে করে পাপ পুণ্য বলতে কিছু নেই। প্রাণিহত্যা করলে পাপ হয় না। দান করলে পুণ্য হয় না। এভাবে এরা কর্মে বিশ্বাস করে না। বৌদ্ধধর্মে এদেরকে বলা হয় অক্রিয়াবাদী। আমি এদেরকে বলি অকর্মবাদী। অহেতুকবাদী আবার অনেকেই মনে করে, ধনী, গরীব ইত্যাদির কোনো হেতু নেই, কারণ নেই। সবকিছুই হচ্ছে নিয়তির লিখন। নিয়তির বিধানে […]

গাছের কি প্রাণ আছে?

জগদীশচন্দ্র বসু তো সেই ১৯০১ সালে প্রমাণ করে দিয়েছেন গাছের প্রাণ আছে। তাই শুধু বিজ্ঞানীরা নয়, আধুনিককালের লোকজনও এক কথায় বলে দেয়, গাছের প্রাণ আছে। বুদ্ধের আমলেও লোকজন এমন বিশ্বাস করত। কিন্তু বৌদ্ধধর্ম এব্যাপারে কী বলে? বুদ্ধের আমলে অনেক ভিক্ষু গাছ কেটে কুটির বানাচ্ছিল। এতে লোকজন নিন্দা করতে লাগল। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বুদ্ধ তখন ভিক্ষুদেরকে […]

চাকমা রাজা হচ্ছেন অর্ধেক বাঙালি!

এই ফটোগ্রাফারের নাম হচ্ছে পাবলো। ইণ্ডিয়ান। তিনি নাকি চাকমা রাজার কাজিন। আমি বললাম, আপনি চাকমা না হলে চাকমা রাজার ভাই হন কীকরে? তিনি বললেন, চাকমা রাজা আগে কলকাতার বাঙালি মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন। সেই সূত্রে চাকমা রাজা হচ্ছেন অর্ধেক বাঙালি! ভালো যুক্তি। তিনি এসেছেন চাকমাদের প্রাচীন পিনন খাদি, লেই ইত্যাদি ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে। কিন্তু চাকমারা […]

তঞ্চঙ্গ্যা ও চাকমাদের কথা

আমাদের বিহারে প্রায়ই চাকমা লোকজন আসে সেয়াদের সাথে দেখা করতে। দুয়েকদিন আগে দুজন লোক এসেছিল একদম ভুসিদং থেকে। তারা নাকি চাকমা পার্টির নেতা নেত্রী। আমি শুনে বললাম, ওরে বাবা! চাকমারা তাহলে পার্টিও বানিয়ে ফেলেছে এখানে? সেয়াদ বলে দিলেন, ২/৩ বছর আগে ঐ দল করা হয়েছে। দলের নাম দেয়া হয়েছে দাইনেক চাকমা পার্টি। নেতা লোকটি আমাকে […]

গান নিয়ে কিছু কথা

ফেসবুকে লেখালেখির সুযোগ হচ্ছে না। চাকমা ডিকশনারির ওয়েবসাইটের কাজ নিয়েই কেটে যাচ্ছে দিন। কিন্তু মাইকে ইদানিং গান শুনতে পাচ্ছি। আশেপাশে প্রচুর বিহার। সেগুলোতে মনে হয় কঠিন চীবর দান হচ্ছে। তাই গান চলছে। টুংটাং টুংটাং করে বাজায় আর গান গায়। আমি সেগুলো বুঝি না। শুধু অবাক হয়ে ভাবি এসবের মানে কী? তবে আধুনিক বার্মিজ গানগুলো খুবই […]

পাঅকের আত্মহত্যা ও আমার ভাবনা

আগের পোস্টে আমি এক ইন্দোনেশিয়ান ভিক্ষু ও তার বাবা-মায়ের ব্যাপারে লিখেছিলাম। এই ভিক্ষুটি আমাকে নিয়ে গিয়েছিল পাঅক পরিয়ত্তি শিক্ষাকেন্দ্রে। গিয়ে দেখলাম সেখানে বিদেশি ভিক্ষু আছে কয়েকজন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, দুয়েকজন বাদে তাদের সবাই আমার পরিচিত। পাঅক ভাবনাকেন্দ্রে থাকার সময়ে এদের কয়েকজনের সাথে আমার বেশ চেনাজানা হয়ে উঠেছিল। তাই অনেকদিন পরে তাদের দেখা পেয়ে মনটা খুশিতে […]

বার্মিজ ভাষা বিভ্রাট নিয়ে গণ্ডগোল

বার্মিজ ভাষা বলতে গিয়ে অনেক গণ্ডগোল বেঁধেছে। একটা ঘটনার কথা বলি। সেটা প্রায় দশ কি এগার বছর আগের কথা। বাংলাদেশ থেকে এক চাকমা ভিক্ষু এসেছিল ইয়াঙ্গুনের এই চাকমা বিহারে। সে ভাঙ্গা ভাঙ্গা বার্মিজ বলতে পারত। একদিন সে বিহারের সামনে হাঁটাহাঁটি করছিল। এসময় একটা ট্যাক্সি এসে দাঁড়াল বিহারের সামনে। ট্যাক্সির যাত্রী তাকে জিজ্ঞেস করল, সেইন য়াদানা […]